“ভোটার কার্ডের নিয়ম বদল!”-নাম তুলতে লাগবে মা-বাবার SIR তথ্য, নয়া নিয়ম কমিশনের

ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য আবেদনকারীদের নিজস্ব নথিপত্রের পাশাপাশি নিজেদের মা-বাবা কিংবা দাদু-দিদার এসআইআর (Special Intensive Revision – SIR) সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। কমিশনের অনলাইন পোর্টাল ‘ইসিআইনেট’ (ECINET)-এর মাধ্যমে ফর্ম ৬ (Form 6) পূরণ করার ক্ষেত্রে এই নতুন ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কী পরিবর্তন আনা হয়েছে? কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন পোর্টালে ফর্ম ৬ পূরণের সময় আবেদনকারীকে এখন একটি নির্দিষ্ট ডিক্লারেশন বা ঘোষণাপত্রের অংশ পূরণ করতে হবে। এর জন্য তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে: ১. আবেদনকারীর নিজের নাম আগের এসআইআর ভোটার তালিকায় ছিল। ২. আবেদনকারীর মা-বাবা, ঠাকুরদা বা ঠাকুমার নাম পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকায় নথিভুক্ত ছিল। ৩. পূর্ববর্তী তালিকায় আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কারও নাম ছিল না।

যদি আবেদনকারী প্রথম দুটি বিকল্প বেছে নেন, তবে তাঁকে সংশ্লিষ্ট আত্মীয়ের বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, পোলিং বুথ নম্বর এবং ভোটার তালিকার সিরিয়াল নম্বর প্রদান করতে হবে।

কেন এই কড়াকড়ি? নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, এর ফলে আসল ভোটারদের চিহ্নিত করা এবং ভোটারদের ‘ম্যাপিং’ করা অনেক সহজ হবে। বিহারে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রক্রিয়া চালু করার পর এবার তা জাতীয় স্তরে কার্যকর করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভুয়ো ভোটারদের বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটারদের আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথির বোঝা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।

আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন: কমিশনের এই প্রশাসনিক নির্দেশের পরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ এবং ভোটার পঞ্জীকরণ নিয়ম ১৯৬০ অনুযায়ী, ফর্ম ৬-এর মূল কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন করতে হলে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের গ্যাজেট নোটিফিকেশন প্রয়োজন। অথচ কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক সংশোধনী ছাড়াই প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে এই নিয়ম চালু করেছে।

তরুণ প্রজন্মের মাথাব্যথা: যারা নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলছেন, তাদের কাছে পরিবারের পূর্ববর্তী ভোটার আইডি সংক্রান্ত তথ্য থাকা সবসময় সম্ভব নয়। যদিও কেউ তৃতীয় বিকল্পটি (অর্থাৎ পরিবারের কারও তথ্য নেই) বেছে নিলে তাঁর আবেদনের ওপর বাড়তি কোনো কড়াকড়ি বা স্ক্রুটিনি করা হবে কি না, তা নিয়ে কমিশনের পোর্টালে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। দেশজুড়ে মৃত বা পরিযায়ী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝেই এই নতুন নিয়ম নতুন ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটিকে কতটা জটিল করে তুলবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আগামী দিনে ভোটার কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *