‘হাঁটলেই’ গোল! ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের সেরা ম্যাজিশিয়ান কেন লিওনেল মেসি?

ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসিকে দেখে অনেকেই হয়তো ভ্রু কুঁচকান। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা ভাবেন, আলস্য গ্রাস করেছে মেসিকে। কিন্তু মাঠের ভেতরে তাঁর এই ‘হাঁটাচলা’র আড়ালেই লুকিয়ে থাকে ফুটবলের জটিল সব অঙ্ক। রিপোর্ট বলছে, ম্যাচে ৯০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৬৩ মিনিটই মেসি কাটিয়েছেন হেঁটে। কিন্তু সেই ‘হাঁটা’র ফাঁকেই তিনি করেছেন ৮টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট! প্রমাণ করেছেন, দৌড়ের চেয়ে মগজাস্ত্রের গতিই ফুটবলে বেশি শক্তিশালী।
মেসির ‘হাঁটা’ কি শুধুই বয়সজনিত?
৩৯ বছর বয়সে এসে মেসির এমন খেলার ধরন দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন বয়সই এর কারণ। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, গত বিশ্বকাপেও মেসি এভাবে খেলেছেন। আসলে এটি মেসির এক নিখুঁত ট্যাকটিকস। তিনি যখন অলস ভঙ্গিতে মাঠের মাঝখানে হেঁটে বেড়ান, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডের মাঝের ‘ডেড জোন’ বা ফাঁকা জায়গাগুলো তিনি চিহ্নিত করেন। যখনই বল তাঁর পায়ে আসে, তখনই তিনি চোখের পলকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চিরে গোলমুখী পাসের নজির গড়েন।
প্রতিপক্ষের জন্য ধাঁধা
মেসির এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা। তিনি দৌড়ান না বলে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা হয়তো এক মুহূর্তের জন্য তাঁকে অবহেলা করেন, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান আর্জেন্টিনার অন্য অ্যাটাকিং খেলোয়াড়রা। সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচেও একই ছবি দেখা গেল। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ৩-১ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালের পথে। এদিন ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে মেসির সেই নিখুঁত কর্নার ছিল শিল্পের মতো।
সেমিফাইনালে মহারণ: আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড
সুইৎজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। আগামী ১৫ জুলাই মধ্যরাতে মুখোমুখি হবে দুই ফুটবল পরাশক্তি। নীল-সাদা জার্সিধারী সমর্থকদের একটাই প্রার্থনা—সেমিফাইনালেও যেন লিওনেল মেসি সেভাবেই ‘হাঁটেন’ এবং তাঁর ক্ষুরধার মগজাস্ত্র দিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তছনছ করে দেন।
ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সেই বুধবারের মধ্যরাতের দিকে, যেখানে ফুটবল জগতের দুই মহাতারকা—হ্যারিকেন ও মেসি—মুখোমুখি হতে চলেছেন।