তেল-গ্যাস নিয়ে ফের দুশ্চিন্তা, হরমুজ ঘিরে ইরান-আমেরিকা সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথে?

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে, যা ফের এক সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। রবিবার ইরান আকস্মিকভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ ঘোষণা করায় পরিস্থিতি চরম জটিল আকার ধারণ করেছে।

কেন বন্ধ হরমুজ? ইরানের দাবি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর দাবি, একটি জাহাজ তাদের নির্ধারিত সামুদ্রিক পথ অমান্য করে নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রেখেছিল। সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সেটি গতিপথ পরিবর্তন না করায় ইরান কড়া পদক্ষেপ নেয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না।” একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ চললে মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের মিত্র দেশগুলোকেও নিশানায় রাখা হবে।

মার্কিন পাল্টা আঘাত
ইরানের এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। রবিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্ট্র্যাটেজিক এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এটি টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক আক্রমণ।

বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ: জ্বালানি সংকট
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান লাইফলাইন। পৃথিবীর মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। মাসকয়েক আগেই যখন এই পথ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তখন বিশ্ববাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১২৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও।

সংকট কতটা গভীর?
ইরান ও আমেরিকার এই রেষারেষি এখন আর কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। সরাসরি সামরিক সংঘাতের পথে যাওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তেলের দাম বাড়লে তা সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *