আপাতত কি বর্ষা শেষ? জেনেনিন ISRO র স্যাটেলাইট ছবি যা বলছে?

আষাঢ়-শ্রাবণ মাস মানেই চারদিকে বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ। অথচ চলতি সপ্তাহে চিত্রটা একেবারে বিপরীত। দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় আকাশ প্রায় মেঘহীন। এক সপ্তাহ আগেই যে মৌসুমি বায়ু সারা দেশকে আর্দ্র বাতাসের চাদরে ঢেকে ফেলেছিল, আজ তা কেন এমন নিষ্প্রভ? আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের এই বৃষ্টির আকালের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে।

কেন থমকে বর্ষার ছন্দ?

ভারতের বৃষ্টির জন্য মূলত দুটি বিষয় দায়ী: ভারত মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ হাওয়া এবং দেশের স্থলভাগের ওপর থাকা ‘মনসুন ট্রাফ’। বর্তমানে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া সুপার টাইফুন (Super Typhoon Bavi) ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত আর্দ্রতা নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। সহজ কথায়, এই টাইফুন যেন ভারতের বর্ষার ‘অক্সিজেন’ শুষে নিচ্ছে। এর ফলে মৌসুমি অক্ষরেখা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মেঘ তৈরির মতো প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের আকাল দেখা দিয়েছে।

এল নিনো ও বৃষ্টির ঘাটতি

মৌসম ভবনের (IMD) আশঙ্কা, চলতি জুলাই মাসে গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম থাকবে। প্রায় ৯৪ শতাংশের কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ওপর প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে তৈরি হতে থাকা ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চেনা ছন্দ বদলে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বর্ষার ওপর।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা

বৃষ্টির এই সাময়িক বিরতি বা ‘ড্রাই স্পেল’-এর কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিনের বেলা তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যেতে পারে। এতে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আশার আলো কি আছে?

এত শঙ্কার মধ্যেও আবহাওয়াবিদরা অভয় দিয়ে জানিয়েছেন, ভারতের বর্ষা এখনই চিরতরে বিদায় নেয়নি। এটি একটি সাময়িক ‘উইক ফেজ’ বা দুর্বল পর্ব মাত্র। প্রশান্ত মহাসাগরের ওই সুপার টাইফুনটি দুর্বল হলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে এবং ফের মেঘ জমবে ভারতীয় আকাশে। তবে সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *