পৃথিবীর নাভি! কানপুরের কাছেই অবস্থিত সেই স্থান, যেখান থেকে ব্রহ্মা শুরু করেছিলেন সৃষ্টি

হিন্দু ধর্মতত্ত্বে ব্রহ্মা হলেন এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু সেই সৃষ্টির আদি বিন্দু ঠিক কোথায়? পৌরাণিক শাস্ত্র এবং বিভিন্ন পুরাণে এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও, ‘ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ’-এ এক বিশেষ স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায় যা আজও ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে পরম বিস্ময়। কানপুর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে গঙ্গা তীরের বিথুর—যেটি প্রাচীনকালে পরিচিত ছিল ‘ব্রহ্মাবর্ত’ নামে। পুরাণ মতে, এই স্থানটিই হলো সৃষ্টির উৎসস্থল বা ‘পৃথিবীর নাভি’।
ব্রহ্মাবর্ত ঘাটের পৌরাণিক ইতিহাস:
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, বিশ্ব সৃষ্টির আগে ভগবান ব্রহ্মা এখানে ৯৯টি অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন। এই যজ্ঞের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক শক্তির কারণেই স্থানটি ব্রহ্মাবর্ত নামে পরিচিত হয়, যা কালের বিবর্তনে সংক্ষেপে ‘বিথুর’ হয়েছে। এই ঘাটের কেন্দ্রস্থলে আজও রয়েছে এক অদ্ভুত ‘ব্রহ্মখুঁটি’। এটি মাটির একটি উঁচু ঢিবি বা স্তম্ভের মতো, যার ওপর রয়েছে এক বিশেষ গর্ত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, সৃষ্টি যেহেতু একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু থেকে শুরু হয়, তাই এই ব্রহ্মখুঁটিকেই পৃথিবীর নাভি বা মহাবিশ্বের আদি বিন্দু বলে গণ্য করা হয়।
প্রথম মানব সৃষ্টির কাহিনী:
শাস্ত্র অনুযায়ী, সৃষ্টির পরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্রহ্মা এখানে প্রথম পুরুষ ‘মনু’ এবং প্রথম নারী ‘শতরূপা’-কে সৃষ্টি করেছিলেন। অর্থাৎ, বিথুর থেকেই মানব সভ্যতার পথ চলা শুরু হয়েছিল বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
আজও মেলে ব্রহ্মার পদচিহ্ন:
ব্রহ্মাবর্ত ঘাটের ধর্মীয় গুরুত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো এখানে সংরক্ষিত ব্রহ্মার পদচিহ্ন। মন্দিরের একটি পাথরের ওপর বড় বড় পদচিহ্ন আজও বিদ্যমান, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এগুলো স্বয়ং ভগবান ব্রহ্মার চরণচিহ্ন। আজও প্রতিদিন বহু মানুষ এই চরণে পূজা দিয়ে তাঁদের আধ্যাত্মিক তৃপ্তি লাভ করেন।
কেন ভ্রমণ করবেন?
বিথুরের এই ঘাটটি কেবল আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনও বটে। গঙ্গা নদীর তটরেখায় অবস্থিত এই শান্ত ও স্নিগ্ধ স্থানটি পর্যটকদের দেয় এক অনন্য প্রশান্তি। যারা ভারতীয় পুরাণ এবং প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য বিথুর একটি অপরিহার্য গন্তব্য।