মেটার নতুন এআই ফিচার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে! সমালোচনার মুখে কয়েক দিনেই বন্ধ করল জাকারবার্গের সংস্থা

চালু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নিজের বিতর্কিত এআই (AI) ইমেজ জেনারেশন ফিচারটি বন্ধ করার ঘোষণা দিল মেটা। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের পাবলিক প্রোফাইলের ছবিকে অনুমতি ছাড়াই এআই তৈরির কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।

কী ছিল বিতর্কিত এই ফিচারে?
মেটার নতুন ‘মিউজ ইমেজ মডেল’ (Muse Image model)-এর অংশ হিসেবে এই ফিচারটি চালু করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে যেকোনো পাবলিক প্রোফাইলকে ট্যাগ করেই এআই-এর সাহায্যে নতুন ছবি তৈরি করা সম্ভব ছিল। ফিচারটি ছিল ‘অপট-আউট’ (Opt-out) পদ্ধতিতে; অর্থাৎ ১৮ বছরের বেশি বয়সী সব ব্যবহারকারীর পাবলিক অ্যাকাউন্টের ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। যাদের ছবি ব্যবহার করতে দিতে ইচ্ছা ছিল না, তাদের আলাদাভাবে সেটি ম্যানুয়ালি বন্ধ করতে হতো। এই পদ্ধতিটিই মূলত শিল্পী, ক্রিয়েটর এবং ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

কেন এই পিছু হটা?
এআই টুল তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট ‘কনসেন্ট’ বা অনুমতির প্রয়োজন—এই দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন নেটিজেনরা। হলিউডের প্রখ্যাত ট্যালেন্ট এজেন্সি ‘ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট এজেন্সি’ (CAA) সরাসরি মেটার কাছে এই বিষয়ে আপত্তি জানায়। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দেয় যে, শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া তাঁদের নাম, ছবি বা কাজের কোনো বাণিজ্যিক ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এছাড়া শিল্পী সংগঠন ‘স্যাগ-আফট্রা’ (SAG-AFTRA) তাদের সদস্যদের এই ফিচার বয়কট করার আহ্বান জানায়।

অবশেষে শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেটার মুখপাত্র স্বীকার করেন, ফিচারটি তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা ও সম্মানের বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই এটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এআই ইন্ডাস্ট্রি ও ক্রমবর্ধমান চাপ:
শুধু মেটাই নয়, বর্তমানে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রযুক্তি সংস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। এর আগে ওপেনএআই (OpenAI)-ও তাদের ‘সোর ২’ ভিডিও মডেল নিয়ে একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং পরে ফিচারটির কার্যকারিতা সীমিত করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রযুক্তি বিশ্বে এখন ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং এআই-এর নৈতিক ব্যবহারের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *