নতুন রূপে ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার! ২০২৬ মডেলে কী কী চমক আনল সংস্থা?

বিশ্বজুড়ে অফ-রোড গাড়িপ্রেমীদের কাছে ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার মানেই এক আবেগের নাম। ২০২৬ সালের জন্য ডিফেন্ডার সিরিজে নিয়ে আসা হলো একগুচ্ছ বড় পরিবর্তন। স্টাইলিং থেকে শুরু করে ইঞ্জিন—সবক্ষেত্রেই থাকছে নতুন চমক। বিশেষ করে শহরের রাস্তায় চলাচলের জন্য সংস্থাটি এবার বাজারে আনছে নতুন ‘ভার্টেক্স’ (Vertex) ট্রিম।

নতুন ‘ভার্টেক্স’ ট্রিমের বিশেষত্ব:
ডিফেন্ডারের এই নতুন ভার্টেক্স ট্রিমটি তার লুকে নিয়ে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এটি ৯০, ১১০ এবং ১৩০—তিনটি বডি স্টাইলেই পাওয়া যাবে। গাড়িটির সামনের গ্রিল বড় করা হয়েছে, সাথে রয়েছে কার্পেথিয়ান গ্রে ফিনিশের বাম্পার, উজ্জ্বল হলুদ রঙের ব্রেক ক্যালিপার এবং গ্লস ব্ল্যাক রুফ স্পয়লার। এছাড়া ২২-ইঞ্চি অ্যালয় হুইল গাড়িটিকে এক প্রিমিয়াম ও আধুনিক লুক দিয়েছে।

অভ্যন্তরে প্রযুক্তির ছোঁয়া:
২০২৬ মডেলের ডিফেন্ডারে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত (AI-powered) ‘হে ল্যান্ড রোভার’ ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যোগ করা হয়েছে হেড-আপ ডিসপ্লে, মেরিডিয়ান সাউন্ড সিস্টেম এবং আরও উন্নত এয়ার পিউরিফিকেশন সিস্টেম। এবার ডিফেন্ডার ১১০ মডেলে ৬-সিটার কনফিগারেশনও পাওয়া যাবে, যেখানে দ্বিতীয় সারিতে থাকছে আরামদায়ক ক্যাপ্টেন চেয়ার।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স:
২০২৬ ডিফেন্ডারে বেশ কিছু যান্ত্রিক পরিবর্তন আনা হয়েছে:

নতুন পি৩৮০ (P380) ইঞ্জিন: ৩.০-লিটারের ছয় সিলিন্ডার মাইল্ড-হাইব্রিড পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ৩৮০ এইচপি শক্তি ও ৫৫০ এনএম টর্ক উৎপাদন করবে।

বিএমডব্লিউ-সোর্সড ইঞ্জিন: ফ্ল্যাগশিপ ডিফেন্ডার অকটা (Octa)-তে থাকছে বিএমডব্লিউ-এর ৪.৪-লিটার টুইন-টার্বো ভি৮ ইঞ্জিন। নতুন বিধিনিষেধের কারণে এর শক্তি কিছুটা কমিয়ে ৫৪০ এইচপি করা হলেও টর্ক রাখা হয়েছে ৭৫০ এনএম। এর ফলে গাড়িটি ০-১০০ কিমি গতি তুলতে সময় নেবে ৪.৪ সেকেন্ড।

পুরানো ইঞ্জিনের বিদায়: বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫.০-লিটারের সুপারচার্জড ভি৮ ইঞ্জিনটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভারতে আসার সম্ভাবনা:
২০২৬ ডিফেন্ডারের অর্ডার নেওয়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ডেলিভারি শুরু হবে এই শরতের শেষ দিক থেকে। যদিও ভারতে লঞ্চের নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো জানানো হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই বিলাসবহুল এই গাড়িটি ভারতীয় বাজারে আসার সম্ভাবনা প্রবল।

গাড়ির বডি প্যানেলের সুরক্ষায় সংস্থাটি নিয়ে এসেছে ‘সেলফ-হিলিং’ কোটসহ ম্যাট বা গ্লস পেইন্ট প্রোটেকশন ফিল্ম, যা ছোটখাটো স্ক্র্যাচ বা দাগ থেকে গাড়িকে রাখবে নতুনের মতো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *