ফের কি ফিরছে কোভিডের মতো মহামারি? বাবা ভাঙ্গার নতুন ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে তোলপাড়!

কয়েক বছর আগে বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা কোভিড-১৯ ভাইরাস আবারও নতুন ভ্যারিয়েন্টের রূপে ফিরে আসছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এই আলোচনার মূলে উঠে এসেছে বুলগেরিয়ার প্রয়াত রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার একটি কথিত দাবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই দাবির প্রেক্ষিতে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও, এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।
ভাইরাস নিয়ে বাবা ভাঙ্গার দাবি:
প্রয়াত ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নামে দাবি করা হচ্ছে, অতীতে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া একটি মারাত্মক ভাইরাস আবারও মানবজাতির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠবে। যদিও গবেষকদের একাংশের মতে, বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীরই কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তাঁর মৃত্যুর বহু পরে অনেক দাবি তাঁর নামে তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত:
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসের মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন ঘটে, যা নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্ম দেয়। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্ট মানেই যে ২০২০ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ বর্তমানে কোভিডের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। নিয়মিত জিনোম সিকোয়েন্সিং ও নজরদারি ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হওয়ায় যেকোনো সংক্রমণকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই মূল মন্ত্র:
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী বা গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই শ্রেয়। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে:
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
ভিড় এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা।
অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়া।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের টিকাকরণ সম্পন্ন করা।