‘সন্দেহের বশে ফাঁসানো হয়েছে’, সুপ্রিম কোর্টে দাবি রাজা রঘুবংশীর স্ত্রী সোনমের!

মেঘালয়ের জলপ্রপাতে স্বামী রাজা রঘুবংশীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীকে ফের জেলে পাঠানোর আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মেঘালয় হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে মামলা করলেও, বিচারপতিরা আপাতত সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি।
কী দাবি সোনমের?
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় সোনম সাফ জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁর দাবি, তদন্তকারী সংস্থা কেবল অনুমান এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই মামলা সাজিয়েছে, যার কোনো প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, গ্রেফতারের সময় তাঁকে সঠিক কারণ জানানো হয়নি এবং আইনি সহায়তার সুযোগও দেওয়া হয়নি। যদিও সুপ্রিম কোর্ট পালটা প্রশ্ন তোলে যে, কেন এই অভিযোগগুলো নিম্ন আদালতে জামিন শুনানির সময় তোলা হয়নি।
রাজ্য সরকারের অবস্থান:
মেঘালয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, গ্রেফতারের নথিতে ধারার ভুল উল্লেখ কেবল একটি ‘টাইপিং মিস্টেক’ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, যার ভিত্তিতে জামিন পাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
মামলার প্রেক্ষাপট:
২০২৫ সালের মে মাসে মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে যান ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী ও তাঁর স্ত্রী সোনম। সোহরার বিখ্যাত ওয়েইসাওডং জলপ্রপাতের কাছে রাজার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই রহস্য ঘনীভূত হয়। পুলিশের দাবি, প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা ও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে সোনম পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে খুন করেছেন। ইতিমধ্যেই ৭০০ পাতার বেশি চার্জশিট জমা পড়েছে আদালতে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো অভিযুক্ত অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার আগে আইনত নির্দোষ। মামলার বিচারপর্ব এখনও চলমান এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সত্য সামনে আসবে। আপাতত হাই কোর্টের জামিনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করলেও, আদালত জানিয়েছে যে হাই কোর্টের জামিন দেওয়ার যুক্তি নিয়ে তাদের মনে কিছু প্রশ্ন রয়েই গেছে।
সোনম রঘুবংশী কি সত্যিই ষড়যন্ত্রকারী, নাকি তিনি নির্দোষ—সেই বিচারের চূড়ান্ত অপেক্ষায় এখন দেশবাসী।