সোনার চামচ নয়, লড়াই করে জয়! UPSC-তে ৮২তম স্থান থেকে সীমান্তে ‘অকুতোভয়’ IFS পূজা কুমারী

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে আপস নয়—তা আবারও প্রমাণ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি পূজা কুমারী ঝা। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে তাঁর সাহসী ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। একজন দুঁদে কূটনীতিক হিসেবে তাঁর দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস কুর্নিশ কুড়িয়েছে সর্বস্তরের মানুষের।
ঠিক কী ঘটেছিল সেমিনারে?
চলতি সপ্তাহে সার্ক (SAARC) সংক্রান্ত একটি সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক ও তথ্য বিষয়ক সেকেন্ড সেক্রেটারি পূজা কুমারী ঝা। সেই অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন হাই কমিশনার আহমেদ তারিক করিম ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই সময় ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনে ভারতের একটি ভুল মানচিত্র দেখানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভুল ধরে ফেলেন পূজা। তিনি তৎক্ষণাৎ বক্তব্য থামিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মানচিত্রটি ভুল এবং জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ। এই সাহসিকতায় বেশ বেকায়দায় পড়ে যান বাংলাদেশের প্রাক্তন কূটনীতিক।
লড়াই করে সাফল্যের শিখরে পূজা:
পূজার এই দৃঢ় মানসিকতার পেছনে রয়েছে জীবনের দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। গুরুগ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা পূজার বাবার পেশা ছিল অফিস সহায়কের কাজ। ছয় ভাইবোনের সংসারে আর্থিক টানাটানি ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু প্রতিকূল সমাজ ও দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার অদম্য জেদ ছিল তাঁর ছোটবেলা থেকেই।
পূজার জীবনের এক নজরে:
শিক্ষাজীবন: সরকারি ও দিল্লি মিউনিসিপ্যাল স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভর্তি হন দিল্লির মৌলানা আজাদ ডেন্টাল কলেজে। শুরুতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, পরবর্তীকালে জনসেবার বড় প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে তিনি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি শুরু করেন।
সাফল্য: ২০২১ সালে প্রথমবার UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বসে সর্বভারতীয় স্তরে ৮২তম স্থান অধিকার করেন পূজা। আইএএস হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি বেছে নেন ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS)।
প্রেরণা: নিজের এলাকায় নারীদের জন্য এক রোল মডেল হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইব্রেরিতে কাটিয়ে নিজের ইংরেজি দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি করেছেন লড়াইয়ের এই দিনগুলোতে।
পূজা কুমারী ঝা আজ কেবল একজন কূটনীতিক নন, তিনি লক্ষ লক্ষ উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ-তরুণীর কাছে এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা। দেশের স্বার্থে তাঁর এই আপসহীন মনোভাব ভারতের কূটনৈতিক মহলে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।