বর্ষায় কেন বৃষ্টির আকাল? ১৪ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে বড় আপডেট দিল আইএমডি!

দেশজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু তার যাত্রা সম্পন্ন করলেও বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে কৃষি বিশেষজ্ঞ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উদ্বেগের কারণ কী? বছরের মোট বর্ষার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি জুলাই মাসে হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছর জুলাইয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ‘লং পিরিয়ড এভারেজ’ অনুযায়ী, জুলাই মাসে এবার ৯৪ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি কৃষি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোথায় বৃষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি? আইএমডি বিজ্ঞানী শশী কান্ত জানান, বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে জুন মাসের শেষের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে (সে সময় ঘাটতি ছিল ৪০ শতাংশ), তবুও এখনও উদ্বেগের জায়গা রয়েছে:

  • পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড।

  • পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চল।

  • কেরল ও কর্নাটকের কিছু অংশ।

সামান্য স্বস্তির খবরও আছে: জুলাইয়ের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছে। বিশেষ করে মুম্বইয়ে প্রবল বর্ষণের ফলে শহরের জলাধারগুলিতে জলস্তর ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জলসঙ্কট দূর করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। মধ্য ও পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে ভালো বৃষ্টি হওয়ার কারণেই সামগ্রিক ঘাটতি কিছুটা কমেছে।

আগামী সপ্তাহের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে উত্তর দিকে সরে আসছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনে নিম্নোক্ত রাজ্যগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর:

  • উত্তরপ্রদেশ ও বিহার।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম।

  • উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যসমূহ।

অন্যদিকে, দিল্লির আবহাওয়ায় শুষ্কভাব বজায় থাকতে পারে এবং মধ্য ও দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্ষার এমন অসম বণ্টন বা গতিপথ পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জল সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *