‘ধর্ষকদের আড়াল করত তৃণমূল!’ বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতাকে তুলোধোনা সুখেন্দুর

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে বিজেপিতে যোগ দিলেন দলের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন।

কেন এই দলবদল? মমতাকে নিশানা সুখেন্দুর বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ। তৃণমূল কংগ্রেস চোর ও দুর্নীতিবাজদের দলে পরিণত হয়েছে। তাদের শাসনে বাংলার তিনটি প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য রাজ্যে শাসক ও বিরোধী দল উন্নয়নের প্রশ্নে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখলেও, বাংলায় বন্‌ধ, ধর্মঘট ও মিছিলের সংস্কৃতিই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বাংলার মেধাবীরা রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও তাঁর দাবি।

‘ব্যতিক্রমী’ যোগদানে খুশি বিজেপি নেতৃত্ব নতুনদের দলে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যাঁরা আজ আমাদের দলে যোগ দিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। সেই কারণেই তাঁরা ব্যতিক্রমী এবং তাঁদের আমরা দলে স্বাগত জানিয়েছি।”

রাজ্যসভার টিকিট কি তবে নিশ্চিত? তিন প্রাক্তন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় এখন জল্পনা শুরু হয়েছে— তাঁদের কি ফের রাজ্যসভায় পাঠাবে বিজেপি? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “আজ থেকে তাঁরা বিজেপির সদস্য। তাঁদের দলের যেকোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা বা বিধানসভার বদলে রাজ্যসভার অভিজ্ঞ এই তিন মুখকে কাছে পাওয়ায় বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল। আসন্ন দিনগুলিতে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁদের কী বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়, এখন নজর সেদিকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *