ছোট্ট এক ভুল, তারপরই কেল্লাফতে! বেঙ্গালুরুতে জাল নোটের কারখানা হানা দিয়ে চমকে দিল পুলিশ

একটি মাত্র সিগারেটের প্যাকেট— আর তার দাম মেটাতে গিয়েই ৫০০ টাকার একটি জাল নোট! এই সাধারণ ভুলটিই কাল হয়ে দাঁড়াল বেঙ্গালুরুর এক জাল নোট কারবারির জন্য। এই একটি সূত্রের সূত্র ধরেই বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে চলা এক বিশাল জাল নোট তৈরির কারখানার হদিশ পেল কর্ণাটক পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে রুদ্রেশ নামের এক উচ্চশিক্ষিত এমবিএ গ্র্যাজুয়েটকে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: গত ২ জুলাই, তামকুরু জেলার একটি মুদির দোকানে নীল রঙের মারুতি অল্টো গাড়িতে করে দুই যুবক আসেন। একটি সিগারেটের প্যাকেট কিনে তাঁরা ৫০০ টাকার একটি নোট দেন। দোকানদার অঞ্জনা শেট্টি প্রথমে স্বাভাবিকভাবে ৩৭০ টাকা ফেরত দিলেও, পরে নোটটি পরীক্ষা করতে গিয়ে সন্দেহ হয়। তিনি দেরি না করে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানান।

প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের বড় সাফল্য: দোকানদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই অল্টো গাড়ির গতিবিধি ট্র্যাক করতে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তদন্তকারীদের দল বেঙ্গালুরুর মাদানায়াকানাহাল্লির গ্যাঙ্গনদানাহাল্লি এলাকায় পৌঁছলে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। সেখানে এক গোপন আস্তানায় জাল টাকা ছাপানোর অত্যাধুনিক মেশিন ও প্রচুর পরিমাণে জাল নোট উদ্ধার হয়।

কে এই রুদ্রেশ? তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ধৃত রুদ্রেশ কোনো সাধারণ অপরাধী নয়, সে একজন উচ্চশিক্ষিত এমবিএ ডিগ্রিধারী। মজার বিষয় হলো, ২০২৪ সালেও সে দাবানগেরে পুলিশের হাতে জাল নোট চক্রের মূল হোতা হিসেবে ধরা পড়েছিল। সে সময় মাত্র তিন মাসে ২০ লাখ টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর সে যে আবার পুরোদমে এই ব্যবসায় নেমে পড়বে, তা ভাবতেও পারেননি তদন্তকারীরা।

তদন্ত কোন দিকে? পুলিশের অনুমান, এই চক্রটি অনেক বড় এবং এর জাল অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকতে পারে। ধৃত রুদ্রেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই কারবারের সাথে আরও কারা জড়িত এবং কত টাকা বাজারে ছড়িয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। অপরাধী চক্রটিকে একেবারে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর কর্ণাটক পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *