শেয়ার বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই! বুধবারের ৮ লক্ষ কোটির লোকসান কাটিয়ে বড় উত্থান

বুধবারের বড়সড় ধসের পর বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেল। সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই ০.৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বিনিয়োগকারীদের হারানো আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও ফিরিয়ে এনেছে। বুধবারের দরপতনে বাজারে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ হ্রাস পেয়েছিল, যার অনেকটা এদিন পুনরুদ্ধার হয়েছে।
বাজারের আপডেট:
সকাল ১০:১০ নাগাদ সেনসেক্স ৬৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,১৩৯ এবং নিফটি ১৯৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,০৭৭-এর ঘরে অবস্থান করছিল। এই উত্থানের ফলে বিএসই-তে (BSE) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির বাজার মূলধন ৫.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে ৪৭৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ইন্ডিয়া ভিআইএক্স (VIX) সূচক ৯ শতাংশ কমে ১৩.৩৪-এ নেমে আসায় বাজারের অস্থিরতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে?
উত্থান: ভারতী এয়ারটেল, ইটার্নাল এবং সান ফার্মা ৩ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করেছে। এছাড়া এশিয়ান পেইন্টস, আইসিআইসিআই ব্যাংক এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও ভালো পারফর্ম করেছে।
পতন: আইটি স্টকগুলোর মধ্যে ইনফোসিস এবং টিসিএস-এর দরপতন সূচকের গতি কিছুটা শ্লথ করেছে। টিসিএস-এর প্রথম ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশের ঠিক আগেই আইটি সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
বাজারের এই তেজিভাবের কারণসমূহ:
১. ভৌগোলিক উত্তেজনার প্রশমন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশ্বাসে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান-মার্কিন নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা নেই এবং তেল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। এটি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২. বিদেশি বিনিয়োগ (FII) অব্যাহত: বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারে আস্থা রেখেছেন। বুধবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো তারা ১,৯৬২.৮০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন।
৩. এশীয় বাজারের প্রভাব: চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে জাপানের নিক্কেই সূচক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা ভারতীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
৪. আয়ের সম্ভাবনা: জুন ২০২৬ ত্রৈমাসিকে নিফটি ৫০ কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ১০.৬ শতাংশ বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে নিট মুনাফার প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হতে পারে, তবুও সামগ্রিক আয়ের পূর্বাভাস বাজারকে চাঙ্গা রেখেছে।
৫. রুপির স্থিতিশীলতা: ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ৯৫.৫৫-এর আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতাকে সহায়তা করছে।
বাজারের চিত্র:
এনএসই-তে (NSE) এদিন শেয়ারের গতিবিধি ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রায় ২,৫০৬টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে মাত্র ৪৩৩টি শেয়ারের দরপতন হয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে লগ্নিকারীরা সব ধরনের শেয়ারেই এখন বিনিয়োগে আগ্রহী।