বারুইপুরের পর বর্ধমানে আদিবাসী বধূকে গণধর্ষণ ও খুন! গ্রেফতার ২, উত্তাল এলাকা

বারুইপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি। ক্যানেলপাড়ের মাঠ থেকে এক আদিবাসী বধূর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই আদিবাসী বধূ গত দেড় মাস ধরে আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তিনি আর ফেরেননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ক্যানেলপাড়ের একটি মাঠে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা দেখে পরিবার খুনের অভিযোগ তোলে। পরিবারের দাবি, গণধর্ষণ করার পরই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার:
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার ভোরে ক্ষেতিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শেখ আজিজুল নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বীরভূমের নানুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত ভদাই শেখকেও পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃতদের বুধবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকেই দেওয়ানদিঘি থানার সামনে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভারতের জাকাত মাঝি পরগনা ও সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকেও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাঁচ সদস্যের একটি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল। তারা ঘটনার বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণধর্ষণ, খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়না তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই খুনের কারণ ও অপরাধের ধরণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়ানদিঘি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দোষীদের যেন কঠোরতম সাজা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *