কানাডায় মর্মান্তিক মৃত্যু! বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে খালের জলে তলিয়ে গেলেন পাঞ্জাবের দুই যুবক

উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন পাঞ্জাবের দুই যুবক। কানাডার মন্ট্রিলের ল্যাচিন খালে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুই ভারতীয়র। মৃতদের একজন বার্নালার তপা মান্ডির বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী লাভপ্রীত সিং এবং অন্যজন অমৃতসরের নৌরঙ্গপুরের বুটালা গ্রামের বাসিন্দা।
কী ঘটেছিল সেদিন?
জানা গেছে, মন্ট্রিলের ল্যাচিন খালের পাড়ে থাকাকালীন হঠাৎই লাভপ্রীতের এক বন্ধু পা পিছলে জলে পড়ে যান। বন্ধুকে বিপদে দেখে তাঁকে বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ খালে ঝাঁপ দেন লাভপ্রীত। কিন্তু তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও তলিয়ে যান। খবর পেয়ে কানাডীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত গভীর হলে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এক পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ:
লাভপ্রীত সিং ছিলেন প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ান বলবীর সিংয়ের একমাত্র ছেলে। ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বাবা নিজের আড়াই একর জমি বিক্রি করে আড়াই বছর আগে তাঁকে কানাডায় পাঠিয়েছিলেন। ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করা লাভপ্রীত পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন। ১০ দিন আগেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর, কিন্তু সেই কণ্ঠস্বর যে চিরতরে থেমে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্বজনরা।
মরদেহ ফেরানোর আকুল আবেদন:
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর পরিবার। লাভপ্রীতের বাবা-মা ও বোন এখন পাঞ্জাব ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাঁদের ছেলের মরদেহ কানাডা থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আর্জি জানিয়েছেন, যাতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়। শিরোমণি আকালি দল (অমৃতসর)-এর জেলা সভাপতি দর্শন সিং মন্দর শোকপ্রকাশ করে পরিবারটিকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই অকাল মৃত্যু কেবল দুটি পরিবার নয়, বরং পুরো পাঞ্জাব জুড়ে শোকের কালো ছায়া নামিয়ে এনেছে। বিদেশে পাড়ি দেওয়া হাজার হাজার প্রবাসী তরুণের নিরাপত্তার প্রশ্নটি আবারও নতুন করে সামনে এল এই ঘটনার মাধ্যমে।