তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা খারিজ ভারতের! সীমান্ত বিবাদ নিয়ে পিছু হটল নেপাল

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদ মিটিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল নেপাল। কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার এবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে।
পিছু হটল নেপাল: এর আগে নেপালের পক্ষ থেকে সীমান্ত বিবাদ মেটাতে ব্রিটেনকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারত সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সীমান্ত সমস্যা সম্পূর্ণভাবে ভারত ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরপরই নেপাল তার পূর্বের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথে ফেরার বার্তা দিল।
ভারতের অবস্থান অটুট: ভারত সরকার বারবারই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, “ভারত সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে প্রস্তুত, কিন্তু সীমান্ত সমস্যা কোনো তৃতীয় পক্ষের বিষয় নয়।” ভারতের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলেই নেপাল এখন বাধ্য হয়ে নমনীয় হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও নেপালের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। খোলা সীমান্ত, সাংস্কৃতিক বন্ধন, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং ধর্মীয় যোগসূত্র দু’দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তবে ২০২০ সালে নেপাল কর্তৃক বিতর্কিত এলাকাগুলোকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে সম্পর্কে বড়সড় টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানে বালেন শাহের বক্তব্য, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশ। আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান চাই”—এই মন্তব্যই বলে দিচ্ছে যে, নেপাল এখন পুরনো বিরোধ ভুলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির দিকেই মনোনিবেশ করতে চাইছে।