সুরক্ষা নাকি বিপদ? WhatsApp-এ Username ফিচার নিয়ে মেটাকে কড়া নোটিশ ভারতের

হোয়াটসঅ্যাপের আসন্ন ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় আইনি বিতর্ক। সাইবার নিরাপত্তা এবং অনলাইন জালিয়াতির আশঙ্কায় এই ফিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। বিষয়টি নিয়ে মেটার (Meta) কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করেছে ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রক।
কেন এই সংঘাত? হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, ইউজারনেম ফিচারটি আসার ফলে ব্যবহারকারীদের মোবাইল নম্বর গোপন থাকবে, যা গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের আশঙ্কা, এর ফলে পরিচয় গোপন রেখে জালিয়াতি, ফিশিং এবং সাইবার অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র সক্রিয় হতে পারে বলে মনে করছে মন্ত্রক।
সময়সীমা বাড়াল কেন্দ্র: সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে মেটাকে নোটিশ পাঠিয়ে এই ফিচার রোলআউট করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে মেটাকে জবাব দেওয়ার জন্য ৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে মেটার অনুরোধে এবং দুই পক্ষের আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই মেটার প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সংস্থাটি নিজেদের সুরক্ষাকবচ নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেছে।
মেটার সাফাই: পুরো বিষয়টি নিয়ে মেটা জানিয়েছে, এই নতুন ফিচারটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকছেই। এছাড়া, যে কেউ চাইলেই কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না, কেবল সঠিক ইউজারনেম জানা থাকলেই চ্যাট করা সম্ভব। অর্থাৎ, এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ: মেটার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারত সরকার। আপাতত সরকার এই ফিচারটি ভারতে রোলআউট করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক। ৯ জুলাই মেটা তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দিলে সরকার বিচার বিশ্লেষণ করবে যে, ইউজারনেম ফিচারটি ভারতের ডিজিটাল নিরাপত্তা পরিকাঠামোর সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইউজারনেম ফিচারটি কি সত্যিই ব্যবহারকারীর সুবিধা বাড়াবে, নাকি সাইবার ক্রাইমের নতুন দুয়ার খুলে দেবে— এখন সেই উত্তরই খুঁজছে আইটি মন্ত্রক।