নির্বাচনী দামামা: বিহার, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা, নজর থাকবে পশ্চিমবঙ্গ—রাজ্যসভার ৩ আসনে ভোট কবে?

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সোমবার দেশের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। বিহার, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শূন্য হয়ে যাওয়া তিনটি রাজ্যসভা আসনেও চলবে ভোটের লড়াই। এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি:
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী:

মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ: ১৩ জুলাই

মনোনয়ন যাচাই (Scrutiny): ১৪ জুলাই

প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ১৬ জুলাই

রাজ্যসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: ২৪ জুলাই

বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: ৩০ জুলাই

ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ: ৩ আগস্ট

কোন আসনে কেন ভোট?
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি কারণে এই আসনগুলি শূন্য হওয়ায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়েছে:

বিহার (বঙ্কিটপুর): বিজেপি নেতা নীতিন নবীন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিহার বিধানসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এই আসনটি ৩০ মার্চ থেকে শূন্য হয়।

গুজরাট (মঞ্জলপুর): প্রবীণ নেতা যোগেশভাই নরনদাস প্যাটেলের প্রয়াণে আসনটি শূন্য হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে আটবারের বিধায়ক যোগেশভাই ২ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মধ্যপ্রদেশ (দতিয়া): ব্যাংক সংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী অযোগ্য ঘোষিত হন, যার ফলে ২ এপ্রিল থেকে এই আসনটি শূন্য হয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা সমীকরণ:
সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে। রাজ্যের ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ—সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বারিক—সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত এবং বাকি দুজনের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের জেরে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন দল ছাড়ায় রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এই উপনির্বাচনগুলো আসন্ন দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *