চীনের সামরিক বাহিনীতে বড়সড় রদবদল! উধাও বহু শীর্ষ জেনারেল, কী ঘটছে পিএলএ-র অন্দরমহলে?

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-তে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জাল ক্রমশ বিস্তৃত করছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সর্বশেষ সামরিক তথ্যে জানা গেছে, পিপলস লিবারেশন আর্মির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা হয় পদ হারিয়েছেন, নতুবা তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন, অথবা হঠাৎ করেই জনসমক্ষে থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এই ঘটনা চীনের সামরিক নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর শি জিনপিংয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
যাদের ঘিরে জল্পনা
সর্বশেষ এই অভিযানে যেসব শীর্ষ কর্মকর্তার নাম সামনে আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জেনারেল জু জুয়েকিয়াং (Xu Xueqiang), সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ডের প্রাক্তন রাজনৈতিক কমিশনার ঝাং মিংহুয়া (Zhang Minghua) এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াং কাংপিং (Wang Kangping)। সরকারি কোনো অনুষ্ঠান বা সামরিক কর্মকাণ্ডে তাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এ জল্পনা উসকে দিয়েছে যে, তারা শি-র চলমান শুদ্ধি অভিযানেরই অংশ হিসেবে অপসারিত হয়েছেন।
এর আগে চীনের আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস থেকেও কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রতিনিধিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এটি শি জিনপিংয়ের সেই দীর্ঘমেয়াদী দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেরই অংশ, যা বর্তমানে পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর ওপর নিবদ্ধ।
রকেট ফোর্স থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়—শুদ্ধি অভিযানের পরিধি
শি-র এই অভিযানে চীনের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোও বাদ যাচ্ছে না। এর আগে প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রকেট ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডারদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। যদিও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের এমন একের পর এক অপসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ রয়েছে, তবুও বেইজিং তার নিজস্ব কৌশলে এই শৃঙ্খলা রক্ষা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
শি-র লক্ষ্য: দুর্নীতি রোধ নাকি আনুগত্য নিশ্চিত করা?
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শি জিনপিং পিএলএ-কে একটি আধুনিক যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছেন। তাঁর মতে, দুর্নীতি কেবল সামরিক সক্ষমতাকেই দুর্বল করে না, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযানের দুটি দিক রয়েছে:
১. দুর্নীতি নির্মূল: অর্থনৈতিক অনিয়ম ও প্রথাগত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. রাজনৈতিক আনুগত্য: সামরিক কাঠামোর ভেতরে শি জিনপিংয়ের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য নিশ্চিত করা।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অভিযানে যেসব কর্মকর্তারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের অনেকেরই পদোন্নতি হয়েছে শি জিনপিংয়ের শাসনামলেই। এর মাধ্যমে শি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন যে, সামরিক বাহিনীর উচ্চস্তরে अनुशासन বা শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।