কূটনৈতিক তৎপরতার জয়: দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন জায়ন চার্চের প্রধান যাজক

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার পর দীর্ঘ কয়েক মাসের কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেন চীনের ভূগর্ভস্থ গির্জার প্রধান যাজক এজরা জিন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। তাঁর এই মুক্তির নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত আলোচনাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।

মুক্তির নেপথ্যে কূটনীতি: পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাজক এজরা জিনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করেছিলেন। ট্রাম্প পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট তাঁর মুক্তির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছেন। পরিবারের মতে, চীনা নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।

কে এই এজরা জিন? ২০০৭ সালে বেইজিংয়ে এজরা জিন ‘জায়ন চার্চ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা চীনের অন্যতম বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় ‘গৃহ-গির্জা’ (House Church) হিসেবে পরিচিত। সরকার-নিবন্ধিত না হওয়ার কারণে ২০১৮ সালে কর্তৃপক্ষ এই গির্জাটি বন্ধ করে দেয়। এরপর অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ চীনের বেইহাই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে “অবৈধভাবে তথ্য নেটওয়ার্ক ব্যবহারের” মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অমীমাংসিত উদ্বেগ: এজরা জিনের মুক্তিকে স্বাগত জানালেও মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’-এর এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মায়া ওয়াং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জায়ন চার্চের আরও অন্তত আটজন সদস্য এখনও চীনের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সংলাপের একটি ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যাজক জিনের মুক্তি পেলেও অন্যান্য বন্দিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ রয়েই গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *