‘আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন’! দিল্লির অভিজাত আবাসনে বধূর মৃত্যুতে তোলপাড় শ্বশুরবাড়ি

বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন মাত্র আড়াই মাস আগে। সংসার জীবনের শুরুতেই এল এক ভয়াবহ অকাল সমাপ্তি। শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির লোধি কলোনি এলাকার একটি বহুতল আবাসন থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হলো ২৮ বছর বয়সি নববধূ আকৃতি সুতারের। আকৃতির পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনাটি ঠিক কী? নিহত আকৃতি দিল্লির একটি সংস্থায় সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার অফিস শেষে বেরোনোর সময় আকৃতির সঙ্গে তাঁদের শেষ কথা হয়। কিন্তু এরপরই তাঁর ফোন ‘নট রিচেবল’ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ যোগাযোগ না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন খোঁজ শুরু করেন। শেষে লোধি কলোনি থানার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, ‘পালিকা কুঞ্জ’ এনডিএমসি ফ্ল্যাটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আকৃতিকে। এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেন পরিবারের সন্দেহ? আকৃতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল শ্রম মন্ত্রকের এক কর্মকর্তার ছেলের সঙ্গে ধুমধাম করে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। মাত্র ৭২ দিন পার হওয়ার আগেই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিজনরা। আকৃতির ভাই-বোন ও আত্মীয়দের দাবি, সে অত্যন্ত মনের জোরের অধিকারী ছিল। আত্মহত্যার মতো চরম পথ সে কোনোদিনও বেছে নিতে পারে না। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধেই সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
পুলিশি পদক্ষেপ: ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহতি (BNSS)-এর ১৯৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে। যেহেতু বিয়ের সাত বছরের মধ্যে নববধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM)-কে জানানো হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, আকৃতির ফোনের কল ডিটেলস এবং আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা তদন্তের পরেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।