‘মোমবাতি মিছিলের কভারেজ হবে তো?’ নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে সংবাদমাধ্যমকে তোপ কুণালের

বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এবার সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আরজি করের ঘটনার সময় সংবাদমাধ্যমের যে ধরনের সক্রিয় ভূমিকা দেখা গিয়েছিল, বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার ক্ষেত্রে সেই ‘মোমবাতি মিছিল’ বা ‘রাত দখলের’ কভারেজ কেন দেখা যাচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট: নিজের ফেসবুক পোস্টে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “বারুইপুরের ঘটনায় এলাকা উত্তপ্ত। এক বজ্জাতের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পালালো নাকি পালাতে দেওয়া হলো?” এরপরই মূলধারার গণমাধ্যমের দিকে নিশানা করে তিনি লেখেন, “বাংলা মিডিয়ায় দিনভর প্রচার, সন্ধের আলোচনা, মোমবাতি মিছিলের কভারেজ হবে না? অভয়া কাণ্ডের সময় যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মিডিয়া, এই নৃশংস ঘটনায় কেন তারা চুপ?”
রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপি: কুণাল ঘোষের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী অভিযুক্তরা বিজেপি কর্মী। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন—অভিযুক্তরা বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত বলেই কি গণমাধ্যম এই খবর এড়িয়ে যাচ্ছে বা কম গুরুত্ব দিচ্ছে? এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ধরনের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: এদিকে, বিরোধীরা যখন সরব, তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছেন। নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, দোষী কাউকেই ছাড়া হবে না এবং দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচার পাবে তো পরিবার? বারুইপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিতকরণ, এক অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়া এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছেই। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে এখন সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—বিচার কি আদৌ দ্রুত মিলবে, নাকি এই ঘটনায় প্রতিবাদের সুর রাজনৈতিক মেরুকরণের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে?