‘মেয়েরা আমাকে এত ভালোবাসে কেন?’ সুপ্রিয়া দেবীকে করা উত্তম কুমারের সেই ঐতিহাসিক প্রশ্নের উত্তর আজও রহস্যময়!

বাঙালির নস্টালজিয়া মানেই ‘উত্তম কুমার’। তিনি কেবল একজন অভিনেতা নন, এক জীবন্ত কিংবদন্তি। কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও আজও ড্রয়িংরুমের আড্ডায় সুপুরুষের সংজ্ঞা দিতে গেলে সবার আগে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। সেই ভুবনভোলানো হাসি, রাজকীয় হাঁটাচলা আর চোখের চাউনিতে আজও বুঁদ হয়ে থাকেন আপামর বাঙালি নারী। কিন্তু রূপোলি পর্দার এই ‘ম্যাজিক ম্যান’ কি বাস্তবেও এমনই ছিলেন? কেন বারবার নারীহৃদয়ে ঝড় তুলতেন তিনি?
মহানায়কের সেই অবাক করা প্রশ্ন
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়। ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে শুটিংয়ের ফাঁকে কিছুটা অবসরে ছিলেন মহানায়ক। সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই এক দুপুরে জীবনের অন্যতম কাছের মানুষ ‘বেণু’ অর্থাৎ সুপ্রিয়া দেবীকে তিনি সোজাসুজি জিজ্ঞেস করে বসেন— “হ্যাঁ গো বেণু, মেয়েরা আমাকে এত ভালোবাসে কেন বলো তো?”
সুপ্রিয়া দেবীর সেই জাদুকরী উত্তর
প্রশ্নে কিছুটা চমকে গেলেও, পরক্ষণেই হেসে ফেলেন সুপ্রিয়া দেবী। উত্তমের হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “কারণ তুমি ‘ডেঞ্জারাসলি হ্যান্ডসাম’ (বিপজ্জনক রকমের সুপুরুষ)। আসলে মেয়েরা একদিকে যেমন একজন ভালোমানুষ ও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী চায়, অন্যদিকে তেমনই একজন বিপজ্জনক সুন্দর প্রেমিকও খোঁজে। তোমার মধ্যে এই দুটোরই অদ্ভুত মেলবন্ধন রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই তো আমি নিজেও তোমার প্রেমে আমার সর্বস্ব মেলে ধরেছি!”
অট্টহাসিতে ভেঙে পড়েন উত্তম
প্রিয় মানুষের মুখে নিজের এই ব্যাখ্যা শুনে সেদিন হাসি থামাতে পারেননি মহানায়ক। উপস্থিত সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে কৌতুকের সুরে বলেছিলেন, “তাহলে তো দেখছেন, এসবে আমার কোনো দোষ নেই! আমি উত্তম, আমি তো এরকমই হব!”
বাস্তব জীবনের এই কথোপকথন প্রমাণ করে দেয়, পর্দায় তিনি যতই রোমান্টিক হোন না কেন, ব্যক্তি উত্তম কুমারও নারীদের মনস্তত্ত্ব বুঝতেন অনন্য এক মায়ায়। সেই মায়ার টান আজও বাঙালির কাছে অমলিন, চিরন্তন।