দিল্লিতে ‘সার্কাস’ চলছে! নির্বাচন কমিশনে যাওয়া নিয়ে ঋতব্রতদের কড়া আক্রমণ কুণালের

তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আসল’ মালিকানা কার? এই প্রশ্নেই এবার প্রকাশ্যে এল কুণাল ঘোষ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের লড়াই। বৃহস্পতিবার ঋতব্রতপন্থীরা দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করতেই, কলকাতায় সুর চড়ালেন কুণাল ঘোষ। তাঁদের দিল্লি সফরকে সরাসরি ‘কেন্দ্রীয় মদতপুষ্ট সার্কাস’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি।
বাড়িওয়ালা বনাম ভাড়াটিয়া তকমা: কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য, “দিল্লিতে একটা সার্কাস প্রদর্শিত হলো, যা কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা স্পনসর করা। ঋতব্রতরা যখন তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন, তখন তাঁদের সার্টিফিকেশন দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। ফর্ম এ আর ফর্ম বি ছাড়া তাঁরা বিধায়কই হতে পারতেন না। বাড়ির মালিকের অনুমতিতেই ভাড়াটিয়া থাকেন, কিন্তু ভাড়াটিয়া কখনও আসল বাড়িওয়ালা হয়ে যান না।”
বিজেপির ইন্ধন ও জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা: কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে বিজেপির অশুভ হাত। তিনি বলেন, “এই সব ভাড়াটিয়াদের পিছনে পাড়ার বড় কোনো দাদা আছে, যারা বলছে গিয়ে দখল করে নাও। বিজেপির মদতপুষ্ট জ্ঞানেশ কুমার আসলে কেন্দ্রের শাসকদলের হয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে ডিস্টার্ব করার চেষ্টা করছেন।”
‘বেইমান’ ও ‘মায়ের পিঠে ছুরি’: তীব্র আক্রমণ করে কুণাল আরও বলেন, “এরা নিজেদের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে, এরা বেইমান। যে ব্যক্তি সিপএমে ছিল, সে এখন দাবি করছে তারাই আসল তৃণমূল! এসবই দিল্লির খেলা। এরা আসলে দলবদলু এবং বিজেপি থেকে বাঁচার জন্য মরিয়া।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দলে বিভাজনের জেরে তৃণমূলের প্রতীক ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এখন তুঙ্গে। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল নেতাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদেরই এবং সেই দাবি জানাতেই তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, কালীঘাট শীর্ষ নেতৃত্ব তথা কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাতেও চরম সীমায় পৌঁছেছে।