চিনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ভারত! জাপানের বিপুল বিনিয়োগে কর্মসংস্থানের জোয়ার, কোন কোন খাতে উন্নতি

ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১২০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পর এবার বড় সুখবর সামনে এল—ভারত ও জাপানের মধ্যে হতে চলেছে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সবুজ শক্তি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই বিনিয়োগ ভারতের শিল্প মানচিত্র বদলে দিতে চলেছে।
বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে কোন কোন খাত? জাপানি বিনিয়োগের বিশাল অংশ জুড়ে থাকছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হলো:
-
সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল: ফুজিফিল্ম গুজরাটে সেমিকন্ডাক্টর উপকরণের উৎপাদন শুরু করবে। এনটিটি ডেটা সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক ও টেলিকম প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করছে।
-
সবুজ শক্তি: মিতসুবিশি ও আইএইচআই-এর সহযোগিতায় সবুজ মিথানল ও অ্যামোনিয়া তৈরির কেন্দ্র গড়ে উঠবে। আসামে সুজুকি ও এনডিডিবি-র হাত ধরে তৈরি হবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট।
-
গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D): হরিয়ানায় ডাইকিন তাদের আর অ্যান্ড ডি কেন্দ্র গড়বে। হায়দ্রাবাদে মিতসুবিশি ইলেকট্রিক ও আইআইটি-র যৌথ উদ্যোগে এআই ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজ শুরু হবে।
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: এই বিনিয়োগ কেবল প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই নয়, কর্মসংস্থান তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। কর্ণাটকের বিবাদিতে টয়োটা তাদের নতুন কারখানায় বছরে ১ লক্ষ যানবাহন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যা প্রায় ২,৮০০ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এছাড়াও জেএফই স্টিল ও জেএসডব্লিউ স্টিলের ইস্পাত প্রকল্প ভারতের উৎপাদন শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? অর্থনীতিবিদদের মতে, জাপানের এই বিনিয়োগ ভারতকে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলবে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে আত্মনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন এবং সবুজ জ্বালানির দিকে ভারতের যে লক্ষ্যমাত্রা, তাতে এই চুক্তি বড় মাইলফলক।
জাপানের প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতের বিশাল বাজার এবং দক্ষ জনশক্তির মেলবন্ধন দেশকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করছে। সামগ্রিকভাবে, এটি ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং উৎপাদন শিল্পে এক বিশাল বুস্ট প্রদান করবে।