১০ সার্কুলার রোড থেকে বিদায়! সরকারি বাংলো নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত রাবড়ি দেবীর

পাটনার ১০ সার্কুলার রোডের সেই পরিচিত বাংলো। গত ২০ বছর ধরে যা ছিল লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। অবশেষে সেই সরকারি বাংলো ছেড়ে বেরিয়ে এলেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেত্রী রাবড়ি দেবী। বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তিনি এখন সপরিবারে থাকছেন কৌটিল্য নগরের এক ব্যক্তিগত বাসভবনে।

কেন এই বাংলো এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল? ২০০৬ সাল থেকে এই বাংলোটি রাবড়ি দেবীর নামে বরাদ্দ ছিল। বিহারের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বহু সাক্ষী এই বাড়িটি। তেজস্বী যাদবের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাক্ষীও এই বাংলো। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পদ হারানোর পর এই বাংলো খালি করার জন্য চাপ আসছিল বিহার সরকারের তরফে। সম্প্রতি ২২ জুন ভবন নির্মাণ বিভাগ রাবড়ি দেবীকে সাত দিনের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার চূড়ান্ত নোটিশ দেয়।

বাংলো নিয়ে বিতর্ক: সরকারের নির্দেশ আসার পরই তৈরি হয় টানাপোড়েন। প্রথমে রাবড়ি দেবী বাংলো ছাড়তে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব সাফাই দেন যে, বিকল্প হিসেবে ৩৯ হার্ডিং রোডের যে বাংলোটি বরাদ্দ করা হয়েছে, সেটির মেরামতের কাজ শেষ হয়নি। তবে সব বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপকে পাশে সরিয়ে অবশেষে তিনি বাড়িটি খালি করে দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ২০০৬ সালে বাংলোটি বুঝে পাওয়ার সময় যে তালিকা ছিল, তাও প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন কার দখলে ১০ সার্কুলার রোড? রাবড়ি দেবী বাংলোটি খালি করার পরপরই সেখানে ওঠার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন বিজেপির মন্ত্রী নন্দ কিশোর রাম। অপরদিকে, তেজস্বী যাদব এবং তাঁর পরিবার ইতিমধ্যেই পাটনার পোলো রোডের একটি সরকারি বাসভবনে উঠে গেছেন।

দীর্ঘ দু’দশকের স্মৃতিবিজড়িত এই বাংলো ছেড়ে দেওয়া লালু পরিবারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় এক ধাক্কা। বিহারের রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে—সরকারি বাংলো ছাড়ার পর লালু পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে কীভাবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *