সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ: ‘কে-৯ বজ্র’ থেকে ভারী টর্পেডো, কেনাকাটার তালিকায় কী কী?

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং সামরিক সক্ষমতা কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। আগামী কাল, শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (DAC)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।
কেন এই বৈঠক এত গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, এবারের বৈঠকে বেশ কিছু উচ্চ-মূল্যের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত তালিকায় যা যা থাকছে:
-
সেনাবাহিনীর জন্য: দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও মরুভূমিতে অত্যন্ত কার্যকর ১৫৫-মিলিমিটারের ‘কে-৯ বজ্র’ (K-9 Vajra) সেলফ-প্রপেলড আর্টিলারি গান আরও বেশি সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
-
নৌবাহিনীর জন্য: ভারত মহাসাগরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে নৌবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তির ভারী টর্পেডো, চালকবিহীন জলযান (USV) এবং স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (AUV) অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে সামুদ্রিক নজরদারি এবং সাবমেরিন-বিরোধী লড়াইয়ে ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
-
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা: প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পাশাপাশি নজরদারি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে বিশেষ ইলেকট্রনিক গ্যাজেট অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দেশীয় শিল্পের জয়জয়কার এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন গতি আনবে। মূলত ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL)-এর মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে সামনে রেখে বিদেশি আমদানির পরিবর্তে দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত মানের অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণেই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, শুক্রবারের এই বৈঠক ভারতের সামরিক শক্তির মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।