হিসেব দিল RBI: দেশের বৈদেশিক ঋণের বোঝা বাড়ছে দ্রুত! মাথাপিছু ঋণের চাপ কতটা?

দেশের অর্থনীতির জন্য চিন্তার ভাঁজ ফেলে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ভারতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৬২.৮ বিলিয়ন ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৭২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় এই ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২৬.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.৫১ লক্ষ কোটি টাকার সমান।

ঋণের পরিসংখ্যানে কী উঠে এল? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্যানুযায়ী, ভারতের মোট দেশীয় উৎপাদনের (GDP) সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের অনুপাতও বেড়েছে। গত বছর যা ছিল ১৯.৮ শতাংশ, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.৮ শতাংশে। অর্থাৎ, দেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বা আয়ের তুলনায় বিদেশি ঋণের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

ঋণের ধরণ ও তার প্রভাব:

  • দীর্ঘমেয়াদি ঋণ: দেশের মোট দীর্ঘমেয়াদি ঋণ (এক বছরের বেশি সময়ের জন্য) মার্চের শেষ পর্যন্ত ছিল ৬১৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এটি গত বছরের তুলনায় ১১.৬ বিলিয়ন ডলার বেশি।

  • স্বল্পমেয়াদি ঋণের চাপ: এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য নেওয়া ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৯.৬ শতাংশ। এর ফলে দেশের সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার (Foreign Exchange Reserves) তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ঋণের অনুপাত ২০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

ডলারের দাম ও ঋণের অঙ্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া দেশের ঋণের হিসেবে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। ডলারে ঋণ হিসেব করা হয় বলে ডলার শক্তিশালী হলে ঋণের অঙ্কেও তার প্রতিফলন ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, যদি ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রভাবটি বাদ দিয়ে বিচার করা হয়, তবে ভারতের প্রকৃত ঋণের বৃদ্ধির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৫১ বিলিয়ন ডলার—যা RBI-এর দেওয়া ২৬.৩ বিলিয়ন ডলারের হিসেব থেকেও প্রায় দ্বিগুণ।

দেশের সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ মিলিয়েই এই পাহাড়সম ঋণের হিসাব তৈরি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মাঝে ভারতের এই ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ আগামী দিনে দেশের মুদ্রানীতি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন চর্চায় অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *