গাড়ি মিলছে না কেন? হুন্ডাইয়ের উৎপাদন তলানিতে, বিপাকে ক্রেতারা; জানুন আসল ঘটনা

হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়ার জন্য ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত মাসের বিক্রির পরিসংখ্যানে বড়সড় ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। জুন মাসে কোম্পানি মোট ৫১,৩৩৫টি গাড়ি বিক্রি করেছে, যার মধ্যে ৩৯,৬৩৫টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এবং ১১,৭০০টি বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। গত বছরের জুনের তুলনায় অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির হার প্রায় ১০% হ্রাস পেয়েছে।

উৎপাদন কেন ব্যাহত হলো? হুন্ডাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্রিতে এই পতনের কারণ ক্রেতাদের চাহিদার অভাব নয়, বরং কোম্পানির সাপ্লাই চেইনের একটি দুর্ঘটনা। কোম্পানির এক গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী সংস্থার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে প্রায় ১৩,৯০০টি গাড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে বিক্রির হার ১৭.১৫% কমেছে।

ক্ষতির পূরণের আশ্বাস: তবে হুন্ডাই এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে গত ২২ জুন ২০২৬ থেকে কোম্পানির সমস্ত প্ল্যান্টে পুনরায় স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। হুন্ডাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুন মাসে যে পরিমাণ উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে, তা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (Q2) পুষিয়ে নেওয়া হবে।

প্রথম ত্রৈমাসিকের পারফরম্যান্স: জুনের বিপর্যয় সত্ত্বেও, এপ্রিল থেকে জুন—এই প্রথম ত্রৈমাসিকে কোম্পানির সার্বিক পারফরম্যান্স কিন্তু খুব একটা খারাপ নয়। গত বছরের তুলনায় এই ত্রৈমাসিকে অভ্যন্তরীণ বিক্রিতে ৫.৩৮% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ক্রেটা (Creta), ভেন্যু (Venue), এক্সটার (Exter), ভার্না (Verna) এবং আলকাজার (Alcazar)-এর মতো মডেলগুলির চাহিদা এখনও তুঙ্গে।

কোম্পানি জানিয়েছে, এখন যেহেতু উৎপাদন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, তাই আশা করা হচ্ছে আগামী মাসগুলোতে বিক্রির গতি আবার বাড়বে। এছাড়া বাজারে তাদের নতুন সাব-৪ মিটার ইলেকট্রিক এসইউভি আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা টাটা ও মাহিন্দ্রার মতো প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোকে কড়া টক্কর দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *