প্রাদেশিক থেকে রাজ্য প্রচারক ব্যবস্থা? আরএসএস-এর শতবর্ষের কৌশলে আসছে বড় চমক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) আগামী ১০ থেকে ১২ জুলাই কর্ণাটকের বেলাগাভিতে তাদের তিন দিনব্যাপী ‘প্রাদেশিক প্রচারক সভা’র আয়োজন করেছে। সংঘের শতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সংগঠনটির কাঠামো থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ কৌশল—সবকিছুতেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন: সংঘ সূত্রে খবর, এই সভার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে চলে আসা ‘প্রাদেশিক প্রচারক’ ব্যবস্থার পরিবর্তে আগামী বছর থেকে ‘রাজ্য প্রচারক’ ও ‘বিভাগীয় প্রচারক’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, এটিই হতে চলেছে শেষ প্রাদেশিক প্রচারক সভা। পরবর্তী বছর থেকে সর্বভারতীয় স্তরে আর এই ধাঁচের বৈঠক হবে না, বরং শুরু হবে ‘সর্বভারতীয় বিভাগীয় প্রচারক সভা’।

গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি: ৭ জুলাই থেকেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবালেসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিজেপির সাংগঠনিক মন্ত্রী বিএল সন্তোষের বেলাগাভিতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভার মূল বিষয়গুলো হলো:

  • শতবর্ষের কর্মপরিকল্পনা: সংগঠনের সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ কৌশলের পর্যালোচনা।

  • পরীক্ষা পদ্ধতি ও যুব অসন্তোষ: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা মোকাবিলার নিজস্ব কৌশল প্রণয়ন।

  • রাম মন্দির বিতর্ক: সরাসরি আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও, অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরির বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অন্দরে যে অস্বস্তি রয়েছে, তা এই বৈঠকে উঠতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় মন্দির পরিচালনার একটি উন্নত মডেল বিবেচনার পক্ষে সওয়াল করতে পারেন কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: সংঘের এই বৈঠক কেবল সংগঠনের আভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বিজেপি-সহ তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যপদ্ধতিকেও সরাসরি প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও সরকারি পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে আরএসএস যে নিজস্ব কৌশল তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে, তা আগামী দিনে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বেলাগাভির এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন দেশবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *