প্রেশার কুকারে তেজপাতা দেওয়া কতটা বিপজ্জনক? জানলে অবাক হবেন, হতে পারে বড় দুর্ঘটনা!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইদানীং একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে প্রেশার কুকারে আস্ত তেজপাতা দিলে তা ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। বিষয়টি অনেকে গুজব বলে মনে করলেও, বিশেষজ্ঞরা একে নিছক আতঙ্ক বলছেন না। প্রেশার কুকার প্রস্তুতকারক নামী কোম্পানিগুলোও তাদের নির্দেশিকায় এই ধরনের বিপদের বিষয়ে সতর্ক করে থাকে।
বিস্ফোরণের কারণ কী?
প্রেশার কুকারের মূল কার্যপদ্ধতি হলো ভেতরে বাষ্পের প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা। কুকারের ঢাকনার মাঝখানে একটি ছোট ছিদ্র বা ‘ভেন্ট পাইপ’ থাকে, যার ওপর হুইসেল বসানো হয়। তেজপাতা আকৃতিতে চওড়া, হালকা ও শক্ত হওয়ার কারণে ফুটন্ত জলের বুদবুদে ভেসে সহজেই ভেন্ট পাইপের মুখে এসে আটকে যেতে পারে। এটি যদি পাইপটিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে বাষ্প বের হওয়ার পথ পায় না। ফলে কুকারের ভেতরে চাপের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। কুকারের সেফটি ভালভ কোনো কারণে কাজ না করলে সেই চাপেই কুকার বিস্ফোরিত হতে পারে।
নিরাপদে তেজপাতা ব্যবহারের সহজ উপায়:
স্বাদ বা সুগন্ধের জন্য তেজপাতা ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তবে ব্যবহারে আনতে হবে সতর্কতা:
টুকরো করে ব্যবহার: তেজপাতা আস্ত না দিয়ে মাঝখান থেকে ছিঁড়ে ছোট ছোট টুকরো করে দিন। এতে পাতাগুলো ভেন্ট পাইপের মুখে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
নিচে চাপা দিয়ে রাখা: তেজপাতা জলের ওপর ভাসিয়ে না রেখে মাংস বা আলুর মতো ভারী উপকরণের নিচে চাপা দিয়ে দিন।
তেল বা মাখন: ফেনা তৈরি হয় এমন রান্নার ক্ষেত্রে এক চামচ তেল বা মাখন মিশিয়ে দিন, এতে ফেনা কম হবে এবং মশলা ভেসে ওঠার সুযোগ পাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত ভর্তি নয়: কুকারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ কখনও খাবার বা জল দিয়ে ভর্তি করবেন না।
সতর্কতাই সুরক্ষা:
ইন্টারনেটের সব তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়, আবার সব কিছুকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রেশার কুকারে তেজপাতা আটকে বড় দুর্ঘটনা হয়তো রোজ ঘটে না, কিন্তু সামান্য সচেতনতা আপনাকে ও আপনার রান্নাঘরকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।