অস্তিত্ব সঙ্কটে গ্রাম! আদমশুমারিতে নাম নেই কেন? ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা, আন্দোলনের ডাক

সরকারি তথ্যপঞ্জি থেকে কার্যত ‘মুছে ফেলা’ হয়েছে রাজস্থানের চিতোরগড় জেলার রাওয়াতভাটা তহসিলের লুহারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত স্যাডল ড্যাম গ্রামটিকে। প্রায় ১,০০০ জন বাসিন্দার এই গ্রামটিকে আদমশুমারির তালিকাভুক্ত না করায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এই ঘটনার জেরে গ্রামবাসীরা তহসিলদারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ ও বিস্ময় গ্রামবাসীদের দাবি, স্যাডল ড্যাম গ্রামটি প্রায় ৭০ বছরের পুরনো। এখানে সরকারি স্কুল রয়েছে, বাসিন্দারা নিয়মিত নির্বাচনে ভোট দেন এবং গ্রামটির নিজস্ব নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রও রয়েছে। এছাড়া পঞ্চায়েতের যাবতীয় নথিপত্রে গ্রামটির অস্তিত্ব নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও আদমশুমারির টিম গ্রামে পা রাখেনি। কেন একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রামকে গণনায় বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

উন্নয়ন বঞ্চনার ভয় আদমশুমারি থেকে বাদ পড়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া। গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন, সরকারি রেকর্ডে যদি জনসংখ্যাই না থাকে, তবে ভবিষ্যতে স্কুল, রাস্তাঘাট বা অন্যান্য উন্নয়নের বরাদ্দ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এক গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে রাজ্য সরকার সারা রাজ্যে আদমশুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করছে, সেখানে ১,০০০ মানুষের একটি গ্রাম বাদ পড়া কীভাবে সম্ভব?”

প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় কার? এই ঘটনায় চিতোরগড় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি কেবল প্রশাসনিক অবহেলাই নয়, বরং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। আদমশুমারির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এত বড় ভুল কোন পর্যায়ে হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য আছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। গ্রামবাসীরা হুমকি দিয়েছেন যে, দ্রুত তাদের গ্রামটিকে গণনাভুক্ত করা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *