ভয়েস স্যাম্পল মামলায় বড় ধাক্কা, মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ

কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) সংগ্রহ সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনো স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন কোনো রক্ষাকবচ না মেলায় তৃণমূল সাংসদের জন্য আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। পাশাপাশি, এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিচারপতি ঘোষ।

আদালতে কী নিয়ে তর্ক-বিতর্ক? শুনানি চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সওয়াল করেন, একটি রাজনৈতিক ভাষণের ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে তদন্ত চলছে। যখন ভিডিওটি স্বয়ং বক্তার সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়েছে, তখন নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এই প্রশ্ন তুলেই তারা আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

পাল্টা জবাবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তদন্তকারী আধিকারিক যদি মনে করেন নমুনা সংগ্রহ করা প্রয়োজন, তাহলে আদালত কি তাকে ‘না’ বলতে পারে? তদন্তের প্রক্রিয়া কেমন হবে বা কী কী তথ্যের প্রয়োজন, তা কি আদালত ঠিক করে দেবে?” বিচারপতি আরও স্পষ্ট জানান, তদন্ত চলাকালীন আদালত সাধারণত এমন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না।

তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ রাজ্যের এদিন রাজ্যের আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল ও রাজদীপ মজুমদার আদালতে দাবি করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। শুনানি শেষে বিচারপতি ঘোষ জানান, তিনি এই মামলায় আর হস্তক্ষেপ করতে চান না। যেহেতু এই সংক্রান্ত অন্য মামলা অন্য বিচারপতির এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে, তাই প্রধান বিচারপতির কাছে মামলাটি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পুরো ঘটনাটির প্রেক্ষাপট ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ‘ডিজে’ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মামলা দায়ের হয়। সেই তদন্তেই অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেয় নিম্ন আদালত। তৃণমূল সাংসদ সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশের ওপর আদালত কোনো স্থগিতাদেশ না দেওয়ায়, এখন আইনি বাধ্যবাধকতার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এখন মামলাটি কোন বেঞ্চে যাবে এবং কবে শুনানি হবে, তা ঠিক করবেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। আপাতত অভিষেককে কোনো বাড়তি সুরক্ষা কবচ দেয়নি উচ্চ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *