পেট্রোল পাম্পের দায় নেই? ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে ছড়ানো ভুয়া পোস্টের পর্দাফাঁস করল সরকার

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইথানল মিশ্রিত ‘E20 পেট্রোল’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে নাকি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে—ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ট্যাঙ্কে ছত্রাক বা শ্যাওলা জমলে বা ইঞ্জিন নষ্ট হলে তার দায়িত্ব পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ নেবে না। এই পোস্টের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির ছবি ব্যবহার করায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তুঙ্গে। তবে আসল সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভাইরাল পোস্টে ঠিক কী দাবি করা হয়েছিল? সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিতর্কিত পোস্টারগুলোতে বলা হয়েছে, ইথানল জলে দ্রবণীয় হওয়ার কারণে ট্যাঙ্কে জল ও আর্দ্রতা জমে ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি করছে। গাড়ি চালানোর সময় ঝাঁকুনি বা ইঞ্জিন বিকল হওয়ার মতো সমস্যা ঘটছে। এই দায়িত্ব থেকে রেহাই পেতে নাকি পেট্রোল পাম্পগুলো দায় এড়ানোর নোটিশ দিচ্ছে। এই পোস্ট ঘিরে নেটপাড়ায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কী বলছে PIB ফ্যাক্ট চেক? পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে সরকারের ‘পিআইবি ফ্যাক্ট চেক’ (PIB Fact Check)। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য:
-
ভুয়া নোটিশ: পেট্রোল পাম্পগুলোতে এই ধরনের কোনো বিলবোর্ড বা সতর্কবার্তা লাগানো হয়নি। ভাইরাল হওয়া পোস্টার ও নোটিশগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
-
বিআইএস (BIS) স্ট্যান্ডার্ড: ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল বিআইএস-এর নির্ধারিত কঠোর গুণগত মান পূরণ করেই বাজারে ছাড়া হয়।
-
জ্বালানির স্থায়িত্ব: ইথানল এবং পেট্রোল একে অপরের সাথে পুরোপুরি মিশে থাকে। এতে আলাদা কোনো স্তর বা শ্যাওলা তৈরির সুযোগ নেই।
-
ইঞ্জিনের সুরক্ষা: আধুনিক ইঞ্জিনগুলো এমন প্রযুক্তিতে তৈরি যা ফুয়েল ট্যাঙ্কে জল প্রবেশ করতে দেয় না। ইথানল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা ঘটনা এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সরকারের অবস্থান: পিআইবি স্পষ্ট করেছে যে, E20 পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার দাবিটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। ইথানল মিশ্রণ ভারতের জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ দূষণ কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ। বিভ্রান্তিকর এই গুজবে কান না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।