“ভদ্রলোকদের জন্য এই বিল নয়”-বিধানসভায় নতুন বিল পেশ করে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর করতে সোমবার বিধানসভায় পেশ করা হলো ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেইনেন্স ফর পাবলিক অর্ডার (অ্যামেডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। বাজেট অধিবেশনের শেষ পর্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বিল দুটি পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিলেন—রাজ্যে দাঙ্গা, অশান্তি এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের সংস্কৃতি আর বরদাস্ত করা হবে না।
দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি নিলামের হুঁশিয়ারি এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি দাঙ্গাবাজদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আসানসোলে আমরা দাঙ্গাকারীদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেখিয়েছি। এবারও প্রয়োজন হলে দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে পাইপয়সা উসুল করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে বা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে কেউ পার পেয়ে যাবে না। তিনি আরও বলেন, “আগের মতো পুলিশ এখন আর টেবিলের তলায় লুকাবে না। এই আইন শুধুমাত্র গুন্ডা ও দাঙ্গাকারীদের দমনের জন্য। জেল খাটানোর পাশাপাশি তাদের সব প্রপার্টি নিলাম করা হবে।”
তৃণমূল ও বিরোধীদের কড়া সমালোচনা বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শক্তপোক্ত বিরোধীও হতে পারেননি আপনারা। কেউ জামা ধরে টানছেন, কেউ নিজেকে তৃণমূল দাবি করছেন।” ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে দিয়ে মাপজোক করার ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতি তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “২০১১ সালে তো ব্রিগেডে করেছিলেন ২১ জুলাই, এবারও চলুন না ব্রিগেডে যাই। সাহস আছে? লোক আসবে না আপনাদের সভায়।”
হুমায়ুন কবীর ও ফিরহাদ হাকিম প্রসঙ্গ হুমায়ুন কবীরের উস্কানিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হুমায়ুন কবীর নিজের ছেলেকে জেতানোর জন্য এসব করছেন। তিনি এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডিল করেছেন, এবার আমাকে ডিল করতে হবে। আমাকে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী ভাববেন না।” এছাড়া ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারি প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয়, তবে দোয়াত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালির সঙ্গে পেন গেলে, দোয়াতকেও যেতে হবে। আইন নিজের গতিতে চলবে।”
নওশাদ সিদ্দিকীকে বার্তা ভাঙড় প্রসঙ্গ টেনে নওশাদ সিদ্দিকীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে ভাঙড়ে একটিও মৃত্যু ঘটেনি। আমরা চাইলে ভাঙড়কে উত্তপ্ত হতে দিতে পারতাম, তাহলে আজকের বিরোধী বিধায়ক (নওশাদ) এই হাউসে আসতে পারতেন না।”
আইনের অপপ্রয়োগ হবে না: আশ্বাস বিরোধীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই আইন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করব না। কিন্তু সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা বা জীবনতলার খুনিদের মতো সমাজবিরোধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”