মৃত্যুশয্যায় রবীন্দ্র সরোবর! দূষণমুক্ত করতে এবং বাস্তুসংস্থান ফেরাতে এবার কোমর বাঁধল সরকার

দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার হওয়ার পর অবশেষে নতুন উদ্যমে প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার ‘ফুসফুস’ খ্যাত রবীন্দ্র সরোবর। ক্রমাগত পলি জমা, জলের গুণগত মান হ্রাস এবং বাস্তুতন্ত্রের অবনতির কথা মাথায় রেখে রবীন্দ্র সরোবরকে দূষণমুক্ত করতে ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)।
সমস্যা যখন চরমে: কেএমডিএ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাথিমেট্রিক সমীক্ষা অনুযায়ী, রবীন্দ্র সরোবরে প্রতি বছর গড়ে ৮.৩ সেন্টিমিটার করে পলি জমছে। গত তিন বছরে হ্রদের গড় গভীরতা ৩.২ মিটার থেকে কমে ৩.০ মিটারে নেমে এসেছে। জলের নমুনা পরীক্ষায় দস্তা ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো বিষাক্ত ধাতব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জলজ প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংস্কারের মূল পরিকল্পনা: সম্প্রতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরোবর এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপরই কেএমডিএ তড়িঘড়ি সংস্কারের নীল-নকশা তৈরি করেছে। পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো:
-
সাকশন কাটার ড্রেজিং: পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষের পরামর্শ অনুযায়ী, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি না করে তলদেশ থেকে পলি তোলার জন্য ‘সাকশন কাটার ড্রেজিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বেঙ্গালুরু ও কাশ্মীরের ডাল লেকে এই পদ্ধতি অত্যন্ত সফল হয়েছে।
-
সবুজায়ন: সরোবরের যেখানে গাছ কমে গেছে, সেখানে নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
-
কংক্রিটমুক্ত এলাকা: হ্রদ চত্বরে অতিরিক্ত কংক্রিটের কাঠামো কমিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হবে।
মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ: পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাজের জন্য আর্থিক অনুমোদনের অভাব হবে না। দ্রততম সময়ের মধ্যে সরোবরকে আগের মতো কাচের মতো স্বচ্ছ ও নির্মল করে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রাতঃভ্রমণকারী থেকে পরিবেশকর্মী—সকলেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
কেএমডিএ-র এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রবীন্দ্র সরোবর আবারও তার হৃত গৌরব ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।