মুখোশধারী চিকিৎসক! লালকেল্লা বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজাফফর?

একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাজে যার পরিচিতি ছিল ‘মসিহা’ হিসেবে, তিনিই কিনা লালকেল্লায় আত্মঘাতী বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী! এনআইএ-র সাম্প্রতিক সম্পূরক চার্জশিটে কাশ্মীরের ডা. মুজাফফর আহমদের নাম উঠে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে গেছে।

বিস্ফোরক অভিযোগ: ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে ১১ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ জানতে পেরেছে, হামলার মূল চক্রী আর কেউ নয়, স্বয়ং ডা. মুজাফফর আহমদ। পেশায় তিনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিশিয়ান, যার কাছে শহরের অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি গোপনে টিএটিপি-ভিত্তিক (TATP) আইইডি তৈরিতে দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন।

‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসের নতুন মডেল: তদন্তকারীদের দাবি, ডা. মুজাফফর আল-কায়েদার শাখা সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’ (AGuH)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শুধু তিনিই নন, তাঁর ভাই ডা. আদিল আহমদ রাদারসহ আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এই জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। শিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তিদের ব্যবহার করে যেভাবে এই জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল, তাকে তদন্তকারীরা ‘হোয়াইট কলার সন্ত্রাস’ বা ‘হোয়াইট কলার টেররিজম’-এর এক চরম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

পলাতক মুজাফফর: চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, ডা. মুজাফফর বিদেশের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং বিস্ফোরক তৈরির যাবতীয় কৌশল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। বর্তমানে তিনি পলাতক। তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে এনআইএ। তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনার গভীরতা অনেক বেশি এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খুঁজে বের করতে দেশজুড়ে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *