‘মসজিদ-গুরুদ্বারা স্বাধীন হলে হিন্দু মন্দির কেন নয়?’ রামমন্দির ইস্যুতে সরব অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি

শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরে প্রস্তাবিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির প্রশাসনের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির চেষ্টার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ‘অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি’। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মন্দির পরিচালনা হওয়া উচিত প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাধু-সন্তদের তত্ত্বাবধানে, কোনোভাবেই আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপে নয়।

সাধু-সন্তদের তীব্র আপত্তি অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির জাতীয় সম্পাদক স্বামী জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, “মসজিদ পরিচালনা করে ওয়াকফ বোর্ড, গুরুদ্বার দেখাশোনা করে এসজিপিসি (SGPC), আর গির্জাগুলো চালায় চার্চ কাউন্সিল। তাহলে শুধুমাত্র হিন্দু মন্দিরগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রেই কেন সরকার হস্তক্ষেপ করতে চাইছে?” তিনি আরও বলেন, দেশের চার লক্ষাধিক মন্দিরকে সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে সেগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত করা উচিত।

‘মন্দির কোনো সরকারি কলোনি নয়’ অযোধ্যায় রামকথা বাসের প্রধান বক্তা আচার্য মিথিলেশ নন্দিনী শরণ প্রশ্ন তুলেছেন, “অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হলো আর সেটা চালাবেন আমলারা? এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” সাধু-সন্তদের দাবি, রামমন্দির হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। তাই মন্দিরকে কোনোমতেই ‘রাষ্ট্রীয় উপনিবেশ’ বা আমলাদের আখড়ায় পরিণত করা চলবে না।

প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে সন্ত সমাজের আর্জি—যদি শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়, তবে সেখানে বিভিন্ন পরম্পরার সাধু ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হোক। তবে মন্দির প্রশাসনে কোনো আমলাকে বসানো যাবে না।

কেন এই বিতর্ক? সম্প্রতি রামমন্দিরে দানপত্র চুরির ঘটনা এবং ট্রাস্টের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় মন্দির পরিচালনার জন্য CEO নিয়োগের প্রস্তাব উঠে আসে। কিন্তু এই প্রস্তাব সামনে আসতেই সন্ত সমাজে অসন্তোষ দানা বাঁধে। সূত্রের খবর, আগামী ১১ জুলাই ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে। তার আগেই সন্তদের এই কঠোর হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *