ইউরোপে মৃত্যুমিছিল! তীব্র দাবদাহে ঝরল ১৩০০ প্রাণ, বন্ধ হলো পরমাণু কেন্দ্রও

গত দু’সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে গোটা ইউরোপ মহাদেশ। তাপমাত্রা কোথাও ৪০ তো কোথাও ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই অসহ্য দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুধুমাত্র ফ্রান্সেই মৃত্যুর সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে এবং সমগ্র ইউরোপ জুড়ে মৃতের সংখ্যা ১৩০০-এর কোটা পার করেছে। মৃতদের তালিকায় সিংহভাগই প্রবীণ নাগরিক।
অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও গ্লেসিয়ার গলন: এবারের গ্রীষ্ম ইউরোপের দেশগুলোর জন্য অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে। ২১ জুনের পর থেকে তাপমাত্রা ৪০-৪৪ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং আল্পস পার্বত্য অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। যার ফলে সুইজারল্যান্ডের গ্লেসিয়ার বা বরফের চাঁইগুলি দ্রুত গলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ডেনমার্কেও তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা তাদের ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণতম দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শহর ঠান্ডা করতে অভিনব উপায়: তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জার্মানির প্রশাসন বাধ্য হয়ে রাস্তায় জলের কামান (Water Cannon) ব্যবহার করছে। সাধারণত বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে যে কামান ব্যবহৃত হয়, তা দিয়েই বার্লিনের রাস্তা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা চলছে। প্যারিসে ফ্যানের চাহিদা তুঙ্গে এবং হাসপাতালের জরুরি পরিষেবাগুলিতে চাপ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ইতালির ১৮টি শহরে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।
বন্ধ হলো পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র: পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। পারমাণবিক চুল্লি ঠান্ডা রাখার জন্য যে জল ব্যবহৃত হয়, তা আরে (Aare) নদী থেকে আসে। কিন্তু নদীর জল এতটাই গরম হয়ে গেছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে সুইজারল্যান্ডের ইউরোপের সবচেয়ে পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
প্রকৃতির এই চরম রূপ ইউরোপের দেশগুলির পরিকাঠামোকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।