বিধানসভায় মমতাকে সরাসরি নিশানা শুভেন্দুর! ‘রাজধর্ম ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির তফাত বোঝেননি তিনি’

বিধানসভায় তোলাবাজি ও গুন্ডাদমন রুখতে রাজ্য সরকারের আনা জোড়া বিলকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকাল ও তার পূর্বসূরিদের তীব্র সমালোচনা করেন।

মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর: এদিন বিধানসভায় নিজের ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনটা রাজধর্ম আর কোনটা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি, তা আলাদা করতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” নিজের পূর্বসূরির নাম না করেই তাঁর এই আক্রমণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

বাম আমলের ‘দুর্বৃত্তায়ন’ নিয়ে বিস্ফোরক: রাজনীতিতে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করান বাম আমলকে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের সূচনা হয়েছিল সিপিএম-এর হাত ধরে। শুভেন্দুর কথায়, “১৯৯৯ সালের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে এই ধরনের অধঃপতন ছিল না। ২০০০ সালে পাশকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে গুরুদাস দাশগুপ্তের পরাজয়ের পর হার্মাদ বাহিনী তৈরির মাধ্যমে রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করা শুরু হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২০০১ সালে সরকারের পরিবর্তন আটকানোর মরিয়া চেষ্টায় বামেরা যে হার্মাদ বাহিনী তৈরি করেছিল, তার ফল তাদেরই ভুগতে হয়েছে। রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।”

তোলাবাজি দমনে নতুন বিল: রাজ্য সরকার এদিন বিধানসভায় তোলাবাজি এবং গুন্ডাদমন রুখতে দুটি বিল পেশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে অপরাধ দমনে এই ধরণের আইন ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং রাজনীতির আঙিনা থেকে গুন্ডাগিরি ও তোলাবাজি মুছে ফেলতে এই বিল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *