সিলেবাসের বাইরে ধর্মীয় শিক্ষা? নিজামাবাদের স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের চাঞ্চল্যকর দাবি, উত্তাল এলাকা

হিন্দি ক্লাসে পড়ানো হচ্ছে উর্দু, এমনকী দেওয়া হচ্ছে নমাজের তালিম! তেলঙ্গানার নিজামাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত গোটা এলাকা। সরকারি অনুমোদন বা সিলেবাসের কোনো তোয়াক্কা না করেই এই ধরণের ‘ধর্মীয় শিক্ষা’ প্রদানের অভিযোগে সরগরম রাজ্য।

কী অভিযোগ? স্থানীয় সূত্রে খবর, স্কুলের হিন্দি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হিন্দি ভাষার বদলে জোরপূর্বক উর্দু এবং নমাজ পড়ার কৌশল শেখানো হচ্ছিল। ছাত্রছাত্রীদের মুখে এই সংক্রান্ত বয়ান সামনে আসতেই অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই গত ২৭ জুন স্কুলের সামনে জড়ো হন বিজেপি কর্মী ও বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। স্কুলের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জেরে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া সিলেবাসের বাইরে এ ধরণের শিক্ষা দান যে নিয়মের চরম লঙ্ঘন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতর তদন্ত শুরু করেছে।

  • মামলা দায়ের: সরকারি আধিকারিকের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের প্রিন্সিপাল, করেসপন্ডেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

  • ভাইরাল ভিডিও: সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে খুদে পড়ুয়াদের এই ধরণের অসংগতিপূর্ণ শিক্ষা সংক্রান্ত বয়ান দিতে দেখা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, অবিলম্বে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে। তেলঙ্গানা প্রশাসন এই ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *