. কালীঘাটে হাইভোল্টেজ নাটক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের

শালবনিতে সরকারি জমি বিক্রির মামলার তদন্তে নেমে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে ভোররাতে পুলিশের তল্লাশি ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অতি সক্রিয়তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের নির্দেশে যা বলা হয়েছে: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৩ জুনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং তল্লাশির সময়ের সমস্ত অডিও-ভিডিও রেকর্ড পুলিশকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। আদালত সূত্রে খবর, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশকে এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এরপর তার দু’সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে পাল্টা হলফনামা দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে তৃণমূলের অভিযোগ: শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত অভিযোগ করেন, শালবনির একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়িতে কোনো রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই হানা দেয়। আইনজীবী জানান, ভোর ৩টের সময় পুলিশ পৌঁছায় এবং ভোর ৫টার দিকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (Disaster Management Team) সদস্যদের ডেকে এনে তালা ভাঙা হয়। আইনজীবীর দাবি, এফআইআর-এ কোথাও অভিষেকের নাম না থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র সন্দেহের বশে সুমিত রায়ের খোঁজে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: আপাতত এই মামলায় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয়নি আদালত। তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো সার্চ ও সিজার প্রক্রিয়ার অডিও-ভিডিও তথ্য প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের এই তল্লাশি অভিযানের আইনি বৈধতা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে সব মহলে।