মধ্যরাতে আফগানিস্তানে পাক সেনার এয়ারস্ট্রাইক! নিহত ৩৪, ক্ষোভে ফুঁসছে কাবুল

ফের একবার রক্তাক্ত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত। মধ্যরাতে আফগানিস্তানের পাক্তিকা ও পাকতিয়া প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালাল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। আফগান প্রশাসনের দাবি, এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৩৪ থেকে ৩৫ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

হামলার নৃশংস বর্ণনা: স্থানীয় সূত্রের খবর, পাক্তিকা প্রদেশের গিয়ান জেলা এবং পাকতিয়া প্রদেশের সামকানি জেলার মানদোখেল এলাকাকে লক্ষ্য করে আচমকা বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ধরন ছিল অত্যন্ত নৃশংস। প্রথম দফার বোমা বর্ষণের পর স্থানীয় মানুষ যখন আহতদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান, ঠিক সেই সময়ে দ্বিতীয় দফায় ফের বিমান হামলা চালানো হয়। সামকানি জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের দাবি, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না; বরং টার্গেট করা হয়েছিল নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি।

পাল্টা দাবি ও চাপানউতোর: হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লা তারার দাবি করেছেন, পাকতিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে আফগান ভূখণ্ডে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল হামলা’ (Precision Strike) চালিয়েছে পাকিস্তান সেনা। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মিথ্যা’ বলে খারিজ করেছে আফগান প্রশাসন। তাদের সাফ কথা, নিহতেরা প্রত্যেকেই বেসামরিক নাগরিক।

সীমান্তে যুদ্ধের আবহ: পাকিস্তানের এই আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে আফগান-পাক সীমান্তে নতুন করে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতীতেও একাধিকবার দুই দেশের সীমান্তে সংঘাত হয়েছে, তবে এবারের হামলা প্রাণহানির নিরিখে অত্যন্ত ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গি দমনের অজুহাতে পাকিস্তানের এই সামরিক অভিযান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও তলানিতে ঠেকিয়ে দিল। আফগানিস্তানের তরফে এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে, যার জেরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *