“৭ দিনের ডেডলাইন দোকানদারদের”-শিয়ালদা ফ্লাইওভারের নীচে চলবে বুলডোজার?

শহরজুড়ে জবরদখল বিরোধী অভিযানে এবার সরাসরি নিশানা শিয়ালদা ফ্লাইওভার। ফ্লাইওভারের নীচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও স্থাপনাগুলি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। এই বিজ্ঞপ্তির পর থেকেই এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।

কী জানিয়েছে পুরসভা? কলকাতা পুরসভার জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোডের বিদ্যাপতি সেতু বা শিয়ালদা ফ্লাইওভারের নিচে অবৈধভাবে নির্মিত কাঠামো কলকাতা পৌর কর্পোরেশন আইন (১৯৮০)-এর ৩৭১ ও ৫১৬ নম্বর ধারার পরিপন্থী। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই বেআইনি কাঠামো অপসারণ না করলে পুরসভা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অর্থাৎ, সময়সীমা পেরিয়ে গেলেই বুলডোজার নামার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শুধু শিয়ালদা নয়, তালিকা দীর্ঘ: উচ্ছেদ অভিযানের আঁচ কেবল শিয়ালদা এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। শহরের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একইভাবে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যাদবপুর ও সন্তোষপুরের মধ্যবর্তী সুকান্ত সেতুর নীচের বাজার এলাকা। সেখানেও অবৈধ ব্যবসায়ীদের দ্রুত দোকান সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেল ও পুরসভার সাঁড়াশি অভিযান: নতুন সরকারের কার্যভার গ্রহণের পর থেকেই জবরদখল হঠাতে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই শিয়ালদা, দমদম, পার্ক সার্কাস এবং যাদবপুর স্টেশনের আশেপাশের অবৈধ দোকানগুলি গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে। শহরজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ফ্লাইওভারের নীচে দীর্ঘদিনের জবরদখল তুলতে এই অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অসহায়ত্ব: শিয়ালদা ও সংলগ্ন এলাকায় জীবিকা নির্বাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘদিনের ব্যবসার জায়গা হারানোর ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। অনেক ব্যবসায়ীর দাবি, বিকল্প ব্যবস্থার কথা না ভেবেই হঠাৎ এই নোটিশ তাঁদের পথে বসিয়ে দেবে।

প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান কি নির্দিষ্ট সময়সীমার পরেই কার্যকর হবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান মিলবে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *