“নাকের ওষুধ দিলেন চোখে!”-ডাক্তারের চরম ভুলে অন্ধ হয়ে গেল ১৯ মাসের শিশু

চিকিৎসার নামে এক ভয়ঙ্কর গাফিলতির সাক্ষী রইল মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলা। চিকিৎসকের চরম ভুলের মাসুল গুনতে হলো মাত্র ১৯ মাসের এক শিশুকে। চোখের ড্রপের বদলে নাকের ড্রপ দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে, যার জেরে ওই শিশু চিরতরে হারিয়েছে তার দৃষ্টিশক্তি।
ঘটনার সূত্রপাত: ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মে। শিশুর বাবা ইন্দ্রজ বিশ্বকর্মা তাঁর অসুস্থ পুত্র বিনয়কে নিয়ে বান্দা সিভিল হাসপাতালে যান। শিশুর চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা করা এবং সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ ছিল। ইন্দ্রজবাবুর অভিযোগ, OPD-তে থাকা অন-ডিউটি চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করার পর তার চোখে সরাসরি ‘স্যালাইন নেজাল ড্রপ’ (নাকের ড্রপ) দিয়ে দেন। পাশাপাশি প্যারাসিটামল সিরাপ ও একটি ইনজেকশন প্রেসক্রাইব করেন।
পরিবারের অভিযোগ: ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ড্রপ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। চোখের যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে সে। স্থানীয় হাসপাতালে কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে সাগর জেলা হাসপাতালে এবং পরবর্তীকালে ভোপাল এইমসে (AIIMS) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটি চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ: নিজের সন্তানের এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য অভিযুক্ত চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবিতে বান্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ইন্দ্রজ বিশ্বকর্মা। পরিবারের অভিযোগ, ওই চিকিৎসক ভুল করে নাকের ওষুধ চোখে দিয়ে দিয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে।
ব্লক মেডিক্যাল অফিসার যোগেন্দ্র খাটিক জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “চিফ মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার (CMHO) ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্তে চিকিৎসকের গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাক্তারদের এই ধরনের চরম অবহেলা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আদৌ ওই চিকিৎসক শাস্তির আওতায় আসবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।