ভারত মহাসাগরের বন্ধুত্বে নতুন দিগন্ত! সেশেলসের জাতীয় পরিষদে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রধানমন্ত্রী মোদির

সেশেলসের জাতীয় পরিষদে এক ঐতিহাসিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত ও সেশেলসের দীর্ঘস্থায়ী ও আস্থার সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেছেন। দ্বীপরাষ্ট্রটির স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

ঐতিহাসিক ও মানবিক বন্ধন: ভাষণের শুরুতে সেশেলসের জাতীয় পরিষদে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন মোদী। তিনি বলেন, “আমাদের বন্ধুত্ব কেবল ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং এর শিকড় ১৭৭০ সালের আগস্ট মাসে প্রোথিত। তৎকালীন ‘থেলেমাইক’ জাহাজে করে আসা সেই পাঁচজন ভারতীয়র হাত ধরেই এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, যা আজকের প্রজন্ম পর্যন্ত বিস্তৃত।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই বন্ধন সরকার বা রাজনীতির তৈরি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলোর পারস্পরিক আস্থার ফসল।

ভারত মহাসাগরীয় রূপকল্প ও সেশেলস: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় সেশেলসকে বরাবরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য আমি সেশেলসকেই বেছে নিয়েছিলাম। এক দশক পর এখানে ফিরে এসে আমার সেই বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে যে, ভারত মহাসাগর আমাদের বিভক্ত করে না, বরং সংযুক্ত করে।”

ব্লু ইকোনমির অগ্রদূত: সেশেলসকে শুধুমাত্র একটি দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে দেখতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সেশেলসের সামুদ্রিক ভূখণ্ডের আয়তন ১৪ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। এটি সেশেলসকে কোনো ছোট দ্বীপরাষ্ট্র নয়, বরং এক বিশাল সামুদ্রিক শক্তি বা ‘ব্লু ইকোনমি’র অগ্রদূত হিসেবে তুলে ধরেছে।” বিশ্বের কাছে এই বিষয়ে সেশেলসের অবদানকে তিনি বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন।

অব্যাহত অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, সময় এবং পরিস্থিতি বদলালেও ভারত ও সেশেলসের মধ্যকার মৈত্রী ও পারস্পরিক উন্নয়নের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *