উত্তাল হতে চলেছে বিধানসভা! ইউসিসি, ওবিসি-সহ ৪টি বিল নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে রাজ্যের আইনি কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছেন বলে জানা গেছে। যার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো বহুল আলোচিত ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (UCC)। এই বিলগুলো ঘিরে শাসকদল বিজেপি এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে।

সোমবার যে চারটি বিল পেশ হতে পারে: ১. ইউসিসি (UCC) বিল: ধর্ম নির্বিশেষে বিবাহ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই বিল। বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত এটি কার্যকর করতে চাইছে। ২. ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংশোধন বিল: ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মে পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই বিল আনা হচ্ছে। ৩. গুন্ডা দমন ও তোলাবাজি বিরোধী বিল: রাজ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুটি পৃথক বিল আনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সমাজবিরোধী ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইউসিসি নিয়ে বিতর্ক ও অবস্থান: নির্বাচনী ইস্তাহারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হবে। তবে দুই মাসের মধ্যেই সরকার এই পদক্ষেপ নেওয়ায় বিরোধীদের মধ্যে শোরগোল পড়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, প্রস্তাবিত ইউসিসি-র আওতা থেকে সংবিধানের ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত ‘আদিবাসী’ সম্প্রদায়কে ছাড় দেওয়া হবে। তাঁদের ঐতিহ্য ও প্রথা সুরক্ষিত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বিরোধীদের কড়া প্রতিক্রিয়া: রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলো।

  • তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় বৈঠকে এই বিলগুলোকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউসিসি-কে ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রের পরিপন্থী বলে মনে করছে তৃণমূল।

  • অন্যান্য বিরোধী দল: গুন্ডা দমন বিলের অধীনে বিনা বিচারে এক বছর পর্যন্ত আটকের সংস্থান থাকায়, বিরোধীরা এটিকে ইউএপিএ (UAPA) বা মিসা (MISA)-র চেয়েও কঠোর বলে বর্ণনা করেছে। সিপিএম, আইএসএফ, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী বিধায়করা এই বিলগুলোর বিরুদ্ধে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে কড়া আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই বিলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে বিরোধী শিবির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবারের বিধানসভা অধিবেশন কেবলমাত্র বিল পেশের মঞ্চ নয়, বরং এটি রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। সরকার যেখানে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ও অভিন্ন আইনি কাঠামোকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে বিরোধীরা এটিকে ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ ও ‘স্বৈরাচারী পদক্ষেপ’ হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে বড় আন্দোলনের পথ তৈরি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *