চলচ্চিত্র জগতে নক্ষত্রপতন! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত কিংবদন্তি কে. ভাগ্যরাজ

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র ঘরানা তৈরি করা কিংবদন্তি শিল্পী কে. ভাগ্যরাজ আর নেই। শনিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তাঁর অকাল প্রয়াণে তামিল চলচ্চিত্র শিল্পসহ গোটা ভারতীয় সিনেমা মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা? পারিবারিক সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও নিয়মমাফিক হাঁটাহাঁটি সেরে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। ঠিক তখনই হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই গুণী শিল্পী।
এক বর্ণাঢ্য জীবন: অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখলেও, তাঁর সফর শুরু হয়েছিল কিংবদন্তি পরিচালক ভারতীরাজার সহকারী হিসেবে। ১৯৭৭ সালে ‘১৬ বয়তিনিলে’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর, ভারতীরাজাই তাঁকে ‘পুতিয়া ওয়ারপুগাল’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। সেই শুরু, এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
বাস্তববাদী গল্পের কারিগর: পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ারে প্রায় ২৭টি ছবি নির্মাণ করেছেন ভাগ্যরাজ। তাঁর পরিচালিত ‘মুন্ধানাই মুদিচু’, ‘অন্ধা ৭ নাটকাল’-এর মতো ছবিগুলোতে মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন, হাস্যরস এবং সামাজিক বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরেছিলেন, তা আজও অমলিন। তিনি এমন এক গল্পকথক ছিলেন, যাঁর কাজে বিনোদনের সাথে মিশে থাকত জীবনের গভীর আবেগ।
কেন তিনি ছিলেন অনন্য? প্রচলিত ‘হিরো’ বা অ্যাকশন দৃশ্যের মোহের বাইরে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে পর্দায় ধরা দিতেন। তাঁর অভিনয় ও চিত্রনাট্যে দর্শকরা নিজেদের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পেতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি শক্তিশালী চিত্রনাট্যই একজন শিল্পীকে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিতে পারে। তাঁর সেই বিশ্বাসই তাঁকে তামিলসহ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
তাঁর এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। সিনেমার পর্দায় ‘পাশের বাড়ির মানুষ’ হয়ে ওঠা এই জাদুকরী শিল্পীর প্রয়াণে বিনোদন দুনিয়ার প্রতিটি স্তরের মানুষ আজ শোকাহত।