ভারতকে সরিয়েই বেজিংয়ের সঙ্গে গোপন চুক্তি! তারেকের চালে কি বঙ্গোপসাগরে বড় বিপদ?

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে কি এবার বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে চিন? সদ্য চিনে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মউ (MoU) স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, মোংলা বন্দরের কাছে একটি ইকোনমিক জোন গড়ে তুলবে চিন। ভারতের পূর্ব উপকূলের নিরাপত্তার নিরিখে এই খবরটি যেমন উদ্বেগজনক, তেমনই তাৎপর্যপূর্ণ।

কেন এই চুক্তি ভারতের মাথাব্যথার কারণ? কলকাতার থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার। সুন্দরবনের অত্যন্ত কাছাকাছি এই বন্দরটি কৌশলগতভাবে ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যে জমিতে চিনের অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে উঠবে, তা আগে ভারতের জন্য নির্ধারিত ছিল। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মোংলা ও মীরসরাইয়ে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির চুক্তি হয়েছিল ভারতের সঙ্গে। ২০১৮ সালে হিরানন্দানি গ্রুপকে সেই কাজের দায়িত্বও দেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর ২০২৫ সালে ইউনূস সরকার সেই চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং এখন সেই প্রকল্পেই চিনের এন্ট্রি ঘটল।

চিনের ‘কৌশলগত’ লক্ষ্য: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চিন বরাবরই বন্দর প্রকল্পগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। অতীতে পাকিস্তানের গওয়াদার থেকে আফ্রিকার জিবুতি—এমন ১৭টি বন্দর প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ করে চিনা সংস্থাগুলো। যদিও এগুলো অর্থনৈতিক প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়, কিন্তু ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আড়ালে চিন গোপনে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাতে পারে।

তেল বাণিজ্যের সেফ প্যাসেজ: চিন বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। তাদের আমদানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশই ভারত মহাসাগর হয়ে যাতায়াত করে। ফলে, বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মোংলা বন্দরে চিনের উপস্থিতি বেইজিংয়ের কাছে এক বড় কৌশলগত জয়।

দিল্লির নজরদারি: গত কয়েক বছর ধরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মেরিটাইম সিল্ক রোডের মাধ্যমে বেজিং তাদের প্রভাব ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ভারত-বিরোধী মনোভাব এবং তারেক রহমানের চিনের প্রতি এই ‘দহরম-মহরম’ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত সরকার বর্তমানে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। একদিকে তিস্তা প্রকল্প, অন্যদিকে মোংলা বন্দর—চিনের এই ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা যে ভারতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *